নির্বাচনের আগে বাংলাদেশে রাজনৈতিক সমীকরণে বড় পরিবর্তন, শক্ত অবস্থানে জামায়াত
বাংলাদেশের আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচনের সময় বিরোধী দলগুলোর মাঠে উপস্থিতি সীমিত থাকলেও এবারের ভোটের আগে পরিস্থিতি ভিন্ন রূপ নিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইসলামপন্থি জামায়াতে ইসলামী এবারের নির্বাচনে তাদের ইতিহাসের সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ফলের দিকে এগোচ্ছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ভোটকে কেন্দ্র করে প্রধান বিরোধী দল বিএনপিকে এগিয়ে রাখা হলেও জামায়াতের নেতৃত্বাধীন জোট একটি শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে উঠে এসেছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তরুণ প্রজন্মের প্রতিনিধিত্বকারী একটি নতুন রাজনৈতিক দল, যার বড় অংশের নেতৃত্ব ৩০ বছরের কম বয়সিদের হাতে। এই দলটি পূর্ববর্তী সরকারবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করলেও স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনি শক্তি হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারেনি।
বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের দাবি, দলটি সংসদের অধিকাংশ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং সরকার গঠনের মতো সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনে তারা আশাবাদী। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনে যদি স্পষ্ট রায় আসে, তবে প্রায় ১৭ কোটির বেশি মানুষের এই দেশে দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফেরার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এবারের নির্বাচনের ফল শুধু অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই নয়, বরং বাংলাদেশে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রভাবের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনতে পারে। চীন ও ভারতের ভূমিকায় নতুন সমীকরণ তৈরি হওয়ার সম্ভাবনার কথাও আলোচনায় আসছে।
ঢাকার একটি গবেষণা সংস্থার এক বিশ্লেষক জানান, যদিও বিভিন্ন জরিপে বিএনপি এগিয়ে আছে, তবে এখনো উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি। বিশেষ করে ‘জেন-জি’ প্রজন্মের ভোট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মোট ভোটারের প্রায় এক-চতুর্থাংশ এই বয়সভুক্ত।
নির্বাচনী প্রচারণায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের প্রতীকসংবলিত পোস্টার, ব্যানার ও প্রচারকেন্দ্র চোখে পড়ছে। আগের নির্বাচনগুলোর তুলনায় এবার ক্ষমতাসীন দলের প্রতীকের আধিপত্য কম দেখা যাচ্ছে, যা রাজনৈতিক পরিবেশের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, একসময় নিষিদ্ধ থাকা জামায়াত এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য আসন পেতে পারে, যদিও এককভাবে সরকার গঠনের সম্ভাবনা এখনো অনিশ্চিত। ভোটারদের একটি বড় অংশ ধর্মীয় পরিচয়ের চেয়ে দুর্নীতি, অর্থনীতি ও সুশাসনের বিষয়গুলোকে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বলেও জরিপে উঠে এসেছে।
সব মিলিয়ে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সবচেয়ে সম্ভাব্য নাম হিসেবে দেখা হলেও, যদি জামায়াত নেতৃত্বাধীন জোট বড় সাফল্য পায়, তাহলে দলটির শীর্ষ নেতৃত্বও সরকারপ্রধান হওয়ার আলোচনায় চলে আসতে পারে।
প্রথমবার ভোট দিতে যাওয়া তরুণ ভোটারদের অনেকেই আশা করছেন, নতুন সরকার যে-ই গঠন করুক না কেন, তারা যেন মত প্রকাশের স্বাধীনতা এবং অবাধ ও সুষ্ঠু ভোটাধিকার নিশ্চিত করে।