মালি: সেনা অভিযানে ১৫ জঙ্গি নিহত
মালির সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে তারা মধ্যাঞ্চলের সেগু প্রদেশে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়ে অন্তত ১৫ জন জঙ্গিকে হত্যা করেছে। এ হামলা চালানো হয় আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ সংগঠন ‘জামা’আত নুসরাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলিমিন’-এর ঘাঁটিতে।
রবিবার সেনাবাহিনীর জনসংযোগ বিভাগ জানায়, আকাশপথে নজরদারির মাধ্যমে সেগু ও তিম্বুক্তু অঞ্চলে সন্ত্রাসীদের অবস্থান চিহ্নিত করা হয়, যেখানে প্রায় ২০টি মোটরসাইকেল ও ১৫ জন সশস্ত্র ব্যক্তি ছিল। পরে বিমান বাহিনী নির্ভুল হামলা চালিয়ে ঘাঁটি ধ্বংস করে এবং সন্ত্রাসীদের হত্যা করে।
এই অভিযান পরিচালনা করেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওমর দিয়ারা, যিনি জানান যে, এটি ছিল “সফল ও নির্ভুল বিমান হামলা, যা মালির সেনাবাহিনীর পেশাদারিত্ব এবং দৃঢ় সংকল্পের প্রমাণ।”
সেনাবাহিনী আরও জানায়, পশ্চিম সেগুর সোকুলো এলাকায় পরিচালিত আরেকটি অভিযানে ১৫ জন সন্ত্রাসীকে ‘নিষ্ক্রিয়’ করা হয়েছে এবং ২০টি মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন সরঞ্জাম ধ্বংস করা হয়েছে।
এই সামরিক অভিযানে স্থল ও বিমান বাহিনীর সমন্বয়কে সাফল্যের মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে, তিম্বুক্তুর উত্তর ও পূর্বাঞ্চলেও বিমান হামলা চালানো হয়, যেখানে দুটি ছদ্মবেশধারী সন্ত্রাসী যানবাহন ধ্বংস করা হয়েছে।
মালির সেনাবাহিনী জানায়, এই অভিযান প্রমাণ করে যে তারা এখন প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত ও তথ্যসমৃদ্ধ পদ্ধতিতে সন্ত্রাসবিরোধী যুদ্ধে অগ্রসর হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, আল-কায়েদা-ঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলো সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মালির বিভিন্ন সড়কপথে হামলা চালিয়ে জ্বালানি ও পণ্য পরিবহন বন্ধ করে দিয়েছে, যার ফলে রাজধানী বামাকোতে তীব্র জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে।
মালি প্রায় ১৫ বছর ধরে সশস্ত্র বিদ্রোহের মুখোমুখি, যেখানে আল-কায়েদা ও আইএস-এর অনুসারী গোষ্ঠীগুলো সক্রিয়। ২০২০ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর দেশটি ফ্রান্সের সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করে রাশিয়ার সাথে সামরিক সহযোগিতা শুরু করে, যার অংশ হিসেবে শত শত ওয়াগনার যোদ্ধা সেখানে মোতায়েন করা হয়েছে।