৮৬৪ দিনের নীরবতা—মণিপুর কি অপেক্ষা করার মতো ছিল?
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, সত্যিই বিস্ময়কর যে মণিপুর নিয়ে আপনার উদ্বেগ প্রকাশ করতে ৮৬৪ দিন লেগে গেল। টানা দু’বছরেরও বেশি সময় ধরে যখন মণিপুর জ্বলছিল, অসংখ্য মানুষ নিহত হচ্ছিলেন, লক্ষাধিক পরিবার ঘরছাড়া হচ্ছিল, তখন দেশের সর্বোচ্চ আসন থেকে আপনার নীরবতা ছিল ভয়ংকর।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আপনার দায়িত্ব প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষা দেওয়া—সে মণিপুর হোক, কাশ্মীর বা কেরল। অথচ মণিপুরে ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ যেন আপনার বিবেককে নাড়াতে পারেনি। দেশবাসীর প্রশ্ন—কেন এত দেরি? কেন ৮৬৪ দিন ধরে মণিপুর নিয়ে একটি শব্দও উচ্চারণ হল না?
এই বিলম্ব শুধু রাজনৈতিক অবহেলা নয়, এটি এক ভয়াবহ নৈতিক ব্যর্থতা। ভুক্তভোগীদের কাছে শাসকের নীরবতা সমান বেদনাদায়ক যেমনটি সহিংসতা। মণিপুরের এই ট্র্যাজেডি শুধু একটি রাজ্যের নয়—এটি গোটা ভারতের গণতন্ত্র ও প্রশাসনিক ব্যবস্থার ভাঙনের প্রতিচ্ছবি।
দেশের সাধারণ মানুষ যখন প্রতিবাদে সরব হয়েছিল, তখন দেশের প্রধানমন্ত্রী চুপ ছিলেন। ইতিহাস শুধু মণিপুরের রক্তপাত মনে রাখবে না, মনে রাখবে ৮৬৪ দিনের নীরবতাকেও।