Tranding
মধ্যপ্রাচ্য / September 17, 2025

জর্ডানে গাজার সমর্থনে গাজায় গণঅনশন

অনলাইন, বঙ্গ দর্পণ: গাজায় চলমান অবরোধ, ক্ষুধা ও হত্যাযজ্ঞের প্রতিবাদে আন্তর্জাতিক উদ্যোগ হিসেবে শুরু হয়েছে “বিশ্বব্যাপী অনশন কর্মসূচি”। জর্ডানে এই কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

“আমরা সবাই গাজা, আমরা সবাই ফিলিস্তিন” নামের আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক এই কর্মসূচির ডাক দেয়। প্রতিবাদকারীদের মতে, এটি কেবল বিবৃতি বা বিক্ষোভ নয়, বরং “স্বেচ্ছা-ক্ষুধার লড়াই” যা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে নৈতিক ও মানবিক দায়িত্বের মুখোমুখি দাঁড় করাবে।

জর্ডানে দলীয় ও নাগরিক অংশগ্রহণ
আম্মান ও বিভিন্ন প্রদেশে ৯টি রাজনৈতিক দল এবং জর্ডানিয়ান রাইটার্স অ্যাসোসিয়েশন এই উদ্যোগে অংশ নেয়। তাদের কার্যালয়গুলো সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে যাতে ইচ্ছুকরা অনশনে যোগ দিতে পারেন।

অংশগ্রহণকারী দলগুলোর মধ্যে রয়েছে ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্ট, লেবার পার্টি, কমিউনিস্ট পার্টি, ডেমোক্রেটিক পপুলার পার্টি এবং আরও কয়েকটি জাতীয়তাবাদী ও নাগরিক দল। এ উদ্যোগকে পর্যবেক্ষকরা শুধু প্রতীকী সমর্থন নয়, বরং আন্তর্জাতিক নীরবতা ভাঙার দৃঢ় বার্তা হিসেবে দেখছেন।

প্রতীকী তারিখ ও জাতিসংঘে স্মারকলিপি
অনশন কর্মসূচির প্রথম দিনটি মিলেছে ১৯৮২ সালের সাবরা ও শাতিলা হত্যাযজ্ঞের ৪২তম বার্ষিকীর সাথে। আয়োজকরা বলছেন, এটি ইচ্ছাকৃতভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে—গাজার বর্তমান দুর্দশার সঙ্গে ফিলিস্তিনি ইতিহাসের মর্মান্তিক অধ্যায়কে যুক্ত করতে।

তৃতীয় সপ্তাহের শুরুতে আম্মানে জাতিসংঘ কার্যালয়ের সামনে কর্মসূচির সমাপনী আয়োজন হবে। সেখানে মহাসচিবের কাছে একটি স্মারকলিপি হস্তান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে, একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশে সমান্তরাল কর্মসূচি হবে।

অংশগ্রহণকারীদের বক্তব্য
জর্ডান লেবার পার্টির মহাসচিব ডা. রোলা হারুব বলেন,

“এটি শুধু গাজার জন্য নয়, বরং বিশ্ববাসীর মধ্যে ভয়, হতোদ্যম আর আত্মসমর্পণের সংস্কৃতি ভাঙার প্রতীকী লড়াই।”

ইসলামিক অ্যাকশন ফ্রন্টের নেতা আলি আবু আল-সুকর বলেন,

“আজ আমরা খেজুর ও পানি দিয়ে প্রতীকী ইফতার করেছি। কিন্তু যা ঘটছে গাজায়, তা বর্ণনাতীত। গাজা আজ গণহত্যার মুখোমুখি।”

অন্যদিকে জাতীয় প্রতিরোধ সমর্থন ফোরামের প্রধান ডা. আবদুল ফাত্তাহ আল-কিলানি সতর্ক করে বলেন,

“গাজায় যা হচ্ছে, তা একদিন আরব বিশ্বের প্রতিটি রাজধানীকে ছুঁয়ে যাবে যদি আমরা এখনই প্রস্তুত না হই।”

তরুণদের অংশগ্রহণ
অনশনে অংশ নেওয়া ২১ বছর বয়সী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী রুবা আল-জাম্মাল বলেন,

“আমার নীরবতা এখন অপরাধ। তাই আমি স্বেচ্ছায় একদিন না খেয়ে থেকে গাজার মানুষদের কষ্ট অনুভব করতে চেয়েছি।”

গাজার মানবিক বিপর্যয়
ইসরায়েলি হামলা ও অবরোধে এখন পর্যন্ত ৬৪ হাজার ৮৭১ জন নিহত, ১ লাখ ৬৪ হাজার ৬১০ জন আহত, এবং ৯ হাজারের বেশি নিখোঁজ হয়েছে। মারাত্মক খাদ্য সংকটে বহু মানুষ মারা গেছেন। দুই মিলিয়নের বেশি মানুষ দারিদ্র্য, বাস্তুচ্যুতি ও ধ্বংসস্তূপের মধ্যে জীবনযাপন করছে।
 

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.