ইন্দোনেশিয়ার জাভায় ভয়াবহ ভূমিধস, প্রশিক্ষণকালে আটকে পড়ে নিহত ২৩ নৌসেনা
ইন্দোনেশিয়ার পশ্চিম জাভা প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিধসের ঘটনায় প্রশিক্ষণরত ২৩ জন নৌসেনার মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
নৌবাহিনী সূত্রে জানা গেছে, শনিবার ভোরে প্রবল ও টানা বৃষ্টিপাতের জেরে পশ্চিম জাভার বান্দুং বারাত জেলার পাসির লাঙ্গু গ্রামে এই ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত গ্রামটি রাজধানী জাকার্তা থেকে প্রায় ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত।
ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর মুখপাত্র ফার্স্ট অ্যাডমিরাল তুঙ্গগুল জানান, ইন্দোনেশিয়া–পাপুয়া নিউগিনি সীমান্তে টহল দেওয়ার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে একটি প্রশিক্ষণ মহড়া চলাকালীন ২৩ জন মেরিন সেনা ভূমিধসের কবলে পড়েন। তিনি বলেন, চরম আবহাওয়া পরিস্থিতির কারণে টানা ভারী বৃষ্টিপাত হয়, যার ফলেই প্রশিক্ষণস্থলে ভূমিধস নেমে আসে।
অন্যদিকে, দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার মুখপাত্র আবদুল মুহারি জানান, মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ভূমিধসে মোট নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০ জনে, যা এর আগে ছিল ১৭। এখনও অন্তত ৪২ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিহতদের মধ্যে কতজন সামরিক সদস্য রয়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি বলে জানান তিনি।
নিখোঁজদের উদ্ধারে প্রায় ৮০০ জন উদ্ধারকর্মী, সেনা ও পুলিশ সদস্য এবং ৯টি ভারী খননযন্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা থেকে ৬৮৫ জন বাসিন্দাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের স্থানীয় সরকারি ভবনে আশ্রয় দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, জাভা দ্বীপে বর্তমানে বর্ষা মৌসুমের চূড়ান্ত সময় চলছে। গত সপ্তাহে জাকার্তা সহ পশ্চিম ও মধ্য জাভার একাধিক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর আগেও মাত্র কয়েক মাস আগে সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়জনিত বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, যেখানে বহু মানুষ প্রাণ হারান এবং লক্ষাধিক মানুষ ঘরছাড়া হন।
ঘটনায় গোটা অঞ্চলে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ভূমিধসের প্রকৃত কারণ এবং ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব জানতে তদন্ত শুরু হয়েছে।