ইউক্রেনে জ্বালানি স্থাপনায় ভোররাতের ‘ব্যাপক’ রুশ হামলা, কিয়েভে ড্রোন–মিসাইলের আঘাত
ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর ভোররাতে রাশিয়া ব্যাপক হামলা চালিয়েছে বলে মঙ্গলবার সকালে নিশ্চিত করেছে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়। একই সময়ে রাজধানী কিয়েভে ড্রোন ও বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হামলার খবর দিয়েছে সামরিক বাহিনী।
মন্ত্রণালয় টেলিগ্রামে জানায়, “এ মুহূর্তে শত্রুর ব্যাপক আক্রমণ চলছে জ্বালানি স্থাপনাগুলোর ওপর। পরিস্থিতি নিরাপদ হলেই বিদ্যুৎকর্মীরা ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়ন ও মেরামতের কাজে নামবেন।”
এর আগে ভোররাতে কিয়েভে ব্যাপক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ইউক্রেনের বিমান বাহিনী দেশজুড়ে ‘পূর্ণ মাত্রার ক্ষেপণাস্ত্র হামলার’ সতর্কতা জারি করে।
বিমান বাহিনী জানায়, “সমগ্র ইউক্রেনজুড়ে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি রয়েছে।” কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর টকাচেঙ্কো জানান, শত্রুপক্ষের শাহেদ ড্রোন ও ক্রুজ মিসাইল আকাশে ছিল, পাশাপাশি ব্যালিস্টিক এবং ‘কিঞ্জাল’ মিসাইল হামলার আশঙ্কাও ছিল।
তিনি আরও জানান, প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রয়েছে এবং বেশ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তু ভূপাতিত করা হয়েছে। নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করার অনুরোধ করা হয়েছে। ফ্রান্স প্রেসের প্রতিবেদকদেরও একটানা বিস্ফোরণের শব্দ ও ড্রোনের উড়ন্ত শব্দ শোনা গেছে। কয়েকটি মিসাইল কিয়েভ আকাশসীমায় ভূপাতিত হয়। কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, শহরের পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়েছে।
অন্যদিকে, সোমবার রাতে পূর্বাঞ্চলীয় খারকিভে রুশ হামলায় অন্তত ৪ জন নিহত এবং ১৭ জন আহত হয়েছেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসন শুরুর পর থেকে প্রায় প্রতিদিনই ইউক্রেন ড্রোন বা মিসাইল হামলার মুখে পড়ছে।
এদিকে, যুদ্ধের অবসান নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে রবিবার সুইজারল্যান্ডে একত্রিত হন ইউক্রেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কর্মকর্তারা। প্রাথমিক খসড়া নথি ইউক্রেন ও ইউরোপীয় মিত্রদের আপত্তির মুখে পড়ে। যদিও সোমবার প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আলোচনা এগিয়ে যাওয়াকে ইতিবাচক বলেছেন, তিনি যোগ করেন—রাশিয়ার সঙ্গে “বাস্তব শান্তি” আনতে আরও অগ্রগতি প্রয়োজন।