উত্তর ইরানে ভয়াবহ দাবানল: আন্তর্জাতিক সহায়তা চাইল তেহরান
ইরানের উত্তরাঞ্চলে কয়েকদিন ধরে জ্বলতে থাকা ভয়াবহ বনদাহ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় জরুরি ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহায়তা চেয়েছে তেহরান। কাস্পিয়ান সাগর–সংলগ্ন প্রায় ৮৫০ কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত এই বনাঞ্চল ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য তালিকাভুক্ত হিরকানিয়ান অরণ্যের অংশ।
ইউনেসকোর তথ্য অনুযায়ী, হিরকানিয়ান বন বিশ্বের অন্যতম প্রাচীন নাতিশীতোষ্ণ রেইনফরেস্ট; যার বয়স ২ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৫ কোটি বছরের মধ্যে। এখানে রয়েছে ৩২০০–এর বেশি উদ্ভিদ প্রজাতির বাসস্থান।
দাবানল আবারও ছড়িয়ে পড়ল
ইরনা জানায়, ১ নভেম্বর প্রথম আগুন নিয়ন্ত্রণে আসলেও ১৫ নভেম্বর তা আবার ভয়াবহভাবে জ্বলে ওঠে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত অন্তত ৮ হেক্টর এলাকা পুড়ে গেছে; তবে প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ এখনও নির্ণয় করা যায়নি।
ইরানের পরিবেশ বিশেষজ্ঞ ও জাতিসংঘের কর্মকর্তা কা’ভেহ মাদানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “ইরানিরা এমন এক প্রাকৃতিক ঐতিহ্য হারাচ্ছে, যা পারস্য সভ্যতারও আগে জন্ম নিয়েছিল।”
তুরস্কের সাহায্য আসছে, রাশিয়াকেও অনুরোধের ইঙ্গিত
ইরানের পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার প্রধান শিনা আনসারি জানান, তুরস্ক দুইটি পানি–বাহী বিমান, একটি হেলিকপ্টার এবং অন্তত ৮ সদস্যের দল পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে। প্রয়োজন হলে রাশিয়ার কাছেও সহায়তা চাওয়া হবে বলে জানান তিনি।
ইরানের ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ জাফর কায়েমবানে জানান, আগুন থামানো অসম্ভব হয়ে পড়ায় ‘বন্ধুসুলভ দেশগুলো’র কাছে জরুরি সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
অভিযোগ: শিকারিদের কারণে অগ্নিকাণ্ড
ইরানের আধা–সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের দাবি, মানবসৃষ্ট কারণেই অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। ধারণা করা হচ্ছে, মাজান্দারান প্রদেশের এলিট অঞ্চলের পাথুরে এলাকায় শিকারিরা এর সূত্রপাত করেছে।
জটিল উদ্ধার অভিযান
দেশটি বর্তমানে ৬ দশকে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও ইরানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সাতটি হেলিকপ্টার আগুন নেভানোর কাজে অংশ নিচ্ছে।
মাজান্দারান প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রধান হোসেন আলী মোহাম্মদি বলেন, “সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এত জটিল উদ্ধার অভিযান আমরা আর দেখিনি।”
২০১৯ সালে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়া এই হিরকানিয়ান বনে বিরল ও বিলুপ্তপ্রায় বহু উদ্ভিদ–প্রাণীর বাস—যার অনেকটাই এখন বিপন্ন হয়ে পড়েছে দাবানলের কারণে।