গাজায় যুদ্ধবিরতি স্থায়ী করতে কায়রোয় মধ্যস্থতাকারীদের বৈঠক
গাজায় কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতি আরও স্থিতিশীল করতে কায়রোয় বৈঠকে বসলেন মধ্যস্থতাকারী চার দেশের শীর্ষ প্রতিনিধিরা। মঙ্গলবার মিশরের রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মিশর, কাতার, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি দল।
মিশরের সরকারি গণমাধ্যম জানিয়েছে, বৈঠকে দ্বিতীয় ধাপের যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এতে অংশ নেন মিশরের গোয়েন্দাপ্রধান হাসান রাশাদ, কাতারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি এবং তুরস্কের গোয়েন্দা প্রধান ইব্রাহিম কালিন।
তুরস্কের পক্ষের এক সূত্র জানায়, আলোচনায় চার পক্ষ যৌথভাবে যুদ্ধবিরতি ধরে রাখার কৌশল এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমন্বিত প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার বিষয়ে মতৈক্যে পৌঁছায়। পাশাপাশি দক্ষিণ ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্রদের উদ্যোগে গঠিত ‘সিভিল-মিলিটারি কো-অর্ডিনেশন সেন্টার’-এর সঙ্গে সমন্বয় বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৈঠকে ইসরায়েল–হামাস সংঘাতের সময়কার বিভিন্ন লঙ্ঘন নিয়েও আলোচনা হয় এবং এসব পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য যৌথ ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দেওয়া হয়।
মিশর, কাতার, তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে গাজার যুদ্ধবিরতির মূল মধ্যস্থতাকারী ও নিরাপত্তা–জামিনদার হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। দুই বছরের দীর্ঘ যুদ্ধের পর গত ১০ অক্টোবর থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে।
এর আগে দুই দিন আগে হামাসের উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধিদল মিশরের গোয়েন্দাপ্রধানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে দ্বিতীয় ধাপের শর্ত নিয়ে আলোচনা করেছে। এই ধাপে হামাসের নিরস্ত্রীকরণ, একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসন গঠন এবং গাজায় আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী নিয়োগের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগ তুলছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও ইসরায়েলি সামরিক অভিযানে অন্তত ৩০০–র বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।