গাজায় চিকিৎসা সংকট চরমে, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম না পৌঁছানোয় ঝুঁকিতে হাজারো রোগী
গাজায় দীর্ঘদিনের যুদ্ধ ও সীমান্ত দিয়ে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রবেশে বাধার কারণে উপত্যকাটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কার্যত ভেঙে পড়ার মুখে। প্রয়োজনীয় ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাবে গুরুতর অসুস্থ ও আহত হাজারো মানুষ জীবনঝুঁকিতে রয়েছেন বলে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক মুনির আল-বারশ জানান, ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ জরুরি চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করায় বহু রোগীর চিকিৎসা ব্যাহত হচ্ছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচার ও জরুরি সেবায় ব্যবহৃত সরঞ্জামের প্রায় ৭৫ শতাংশের মতো এখন পাওয়া যাচ্ছে না। স্যালাইন, ব্যথানাশক ও অবশ করার ওষুধ, গজ, ডায়ালাইসিস সামগ্রী—সবকিছুরই মারাত্মক ঘাটতি দেখা দিয়েছে।
এ অবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বিদ্যুৎ সংকট ও জেনারেটরের অভাব, যার ফলে হাসপাতালগুলো স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে না। আল-বারশ বলেন, গত কয়েক দশকের মধ্যে এটি গাজার সবচেয়ে ভয়াবহ স্বাস্থ্য সংকট।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, শুধু যুদ্ধাহত নয়, দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত বহু মানুষও এই সংকটে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। চিকিৎসা না পাওয়ায় প্রায় চার হাজার গ্লকোমা রোগী স্থায়ীভাবে দৃষ্টিশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। পাশাপাশি প্রায় ৪০ হাজার বাস্তুচ্যুত গর্ভবতী নারী অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দিন কাটাচ্ছেন, যা তাদের ও তাদের অনাগত সন্তানের জন্য বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।
দুই বছরের বেশি সময় ধরে চলা সংঘাতে গাজার অধিকাংশ হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শতাধিক চিকিৎসা স্থাপনায় হামলা হয়েছে এবং বহু স্বাস্থ্যকর্মী নিহত বা আটক হয়েছেন। এই বাস্তবতায় দ্রুত মানবিক সহায়তা ও চিকিৎসা সামগ্রী প্রবেশের অনুমতি না মিললে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করছেন সংশ্লিষ্টরা।