ট্রাম্পের সঙ্গে আরব ও ইসলামি নেতাদের বৈঠক: গাজা যুদ্ধ বন্ধের আলোচনায় আশার সুর
নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ – জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিউইয়র্কে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ বিভিন্ন আরব ও ইসলামি দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকে ট্রাম্প ঘোষণা দেন, তার দেশ গাজা যুদ্ধ বন্ধে কাজ করবে এবং "সম্ভব হলে এখনই তা শেষ করতে পারে।"
ট্রাম্প বৈঠককে নিজের জীবনের "সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক" বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, "এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আমরা যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে আলোচনা করব, এবং হয়তো এখনই তা শেষ করা সম্ভব হবে।"
এরদোয়ানের প্রতিক্রিয়া
বৈঠক শেষে প্রেসিডেন্ট এরদোয়ান সাংবাদিকদের জানান, আলোচনা "অত্যন্ত ফলপ্রসূ" হয়েছে। তিনি ইঙ্গিত দেন যে বৈঠকের পর একটি যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করা হবে, তবে বিস্তারিত জানাতে অস্বীকৃতি জানান।
তুরস্ক শুরু থেকেই ইসরায়েলের গাজায় হামলাকে "গণহত্যার শামিল" বলে কড়া সমালোচনা করেছে। বৈঠকের সময়ও এরদোয়ান বলেন, "গাজায় কোনো যুদ্ধ চলছে না, চলছে আগ্রাসন ও গণহত্যা। যা ঘটছে তা হলো হত্যা, ধ্বংস ও জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ।"
সংশ্লিষ্ট ঘটনাপ্রবাহ
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, কেবল সামরিক সমাধান গাজায় কার্যকর নয়।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো ঘোষণা করেছেন, তার দেশ গাজায় শান্তিরক্ষী বাহিনীতে ২০ হাজার সেনা পাঠাতে প্রস্তুত।
জর্ডান নিরাপত্তার কারণে গাজা শহর থেকে তাদের ফিল্ড হাসপাতাল সরিয়ে নিয়েছে।
কাতারের আমির জাতিসংঘে ভাষণে অভিযোগ করেন, ইসরায়েল দোহায় হামলা চালিয়ে গাজায় যুদ্ধবিরতির আলোচনায় বাধা দিতে চাইছে।
ট্রাম্পের জাতিসংঘ বক্তৃতা
এছাড়া, জাতিসংঘে দেওয়া নিজের বক্তৃতায় ট্রাম্প হামাসের কাছে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্তি ও গাজায় যুদ্ধ অবিলম্বে বন্ধের আহ্বান জানান। তবে তিনি ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করেন এবং ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেন।
জাতিসংঘকে কঠোর সমালোচনা করে ট্রাম্প সতর্ক করে বলেন, "অভিবাসন ইউরোপের মৃত্যু ডেকে আনবে" এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে তিনি আবারও "প্রতারক ধারণা" বলে অভিহিত করেন।
আততায়ীর রায় ও নাটকীয়তা
এদিকে ফ্লোরিডায় ট্রাম্পকে হত্যাচেষ্টার দায়ে অভিযুক্ত ৫৯ বছর বয়সী রায়ান রথ আদালতে রায় ঘোষণার পর গলায় কলম দিয়ে নিজেকে আঘাত করার চেষ্টা করেন। নিরাপত্তাকর্মীরা দ্রুত তাকে নিয়ন্ত্রণে আনেন। জুরি তাকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।
রথের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপতি প্রার্থী হত্যাচেষ্টা, অবৈধ অস্ত্র রাখা, ফেডারেল কর্মকর্তার ওপর হামলা ও বিস্ফোরক মজুতসহ একাধিক মামলা চলছে।