প্রতিভা পত্রিকা ও প্রতিভা প্রকাশনির বাৎসরিক অনুষ্ঠান
বিশেষ প্রতিবেদন : অনলাইন বঙ্গদর্পণ-
প্রতিভা পত্রিকা ও প্রতিভা প্রকাশনির বাৎসরিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হল ০৬/০৯/২০২৫ তারিখে, কবি জ্ঞানদাসের স্মৃতি বিজড়িত কান্দরা গ্রামের 'আরথি' অনুষ্ঠান ভবনে৷
শিল্পী মহুয়া সাহার কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীত দিয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবেই শুরু হয় প্রতিভা'র এই বাৎসরিক সাহিত্য সম্মেলন-১৪৩২।এরপরই অভ্যাগতদের' রক্তগোলাপ' দিয়ে বরণ পর্ব সেরে উদ্ববোধনি সঙ্গীত গাওয়া হয়৷ তারপর প্রতিভার উপদেস্টা শিবচরন সাহার বক্তৃতার মাধ্যমে মূল অনুষ্ঠান পর্ব শুরু করা হয়৷ স্বাগত ভাষন দিয়ে অভ্যাগতদের মন জয় করেন প্রতিভা পত্রিকার সম্পাদক মাহিরুল ইসলাম৷ অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন প্রথিতযশা শিক্ষক অরুন রায় মহাশয়৷ অনুষ্ঠানের মূল পর্ব শুরু হয় প্রতিভা পত্রিকার ১৪৩২সংখ্যাটি আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রকাশ করা হয়৷পত্রিকা প্রকাশ ও বিতরণের পর শুরু হয় প্রতিভা প্রকাশনির বই প্রকাশ অনুষ্ঠান৷ একই সঙ্গে পর্যায় ক্রমে প্রতিবাদী কবি হুমায়ূন কবীরের 'কবিতা,গান ও কান্না', আধুনিক কবি সবুজ সেখের 'বাবুই' নামে কাব্য গ্রন্থ ও নারীবাদী লেখিকা আফরোজা সুলতানার 'মুক্তির আস্বাদ' নামে একটি গল্প গ্রন্থ প্রকাশ করা হয়৷ পত্রিকা ও বইগুলির মোড়ক উন্মোচন করে সভাপতি অরুন রায় মহাশয়৷ সঙ্গে ছিলেন প্রতিভার কর্ণধার মাহিরুল ইসলাম, উক্ত গ্রন্থ গুলির লেখক-লেখিকা ও উপস্থিত গুনিজনরা৷ কবিতা, ভাষণ, ছড়া ও গানে অনুষ্ঠানটি অন্য মাত্রা লাভ করে৷ সর্বাধিক আকর্ষণীয় ছিল শিশু বিভাগের ছড়া-কবিতা পাঠ৷ শিশুদের মধ্যে মানুষের মন কাড়ে মাহিরুল ইসলামের ছেলে সায়ন ইসলাম, কবি সবুজ সেখের ছেলে নীল সেখ৷ জিশান সেখ ও সাহারা খাতুন৷ শিশুদের মধ্যে দৃস্টি আকর্শন করে দেড় বছরের এক শিশু কন্যা কবি হুমায়ূন কবীরের মেয়ে আয়রা কবীর৷ দুধের শিশুকেও মঞ্চে টেনে এনেছে প্রতিভার আকর্ষণ৷ এটাই প্রতিভার সার্থকতা৷ অনুষ্ঠানের পাশাপাশি কৃতি ছাত্র-ছাত্রী, গুনিজন ও লেখক কবিদের হাতে তুলে দেওয়া হয় সম্মাননা৷ যার মধ্যে মাধ্যমিকে চতুর্থ স্থান অধিকারী মহাঃ সেলিম ও নেট পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারিনী নিলুফার ইয়াসমিনকে দেওয়া হয় হয় প্রতিভা রশ্মি পুরস্কার, ১২ জন কবি,সাহিত্যিক ও সমাজ সেবীকে দেওয়া হয় প্রতিভা রত্ন পুরস্কার, তিন জন লেখক-কবিকে দেওয়া হয় 'মসি যোদ্ধা সম্মাননা৷ এবং শিশু শিল্পী ও বেশ কিছু গুনীজনকে দেওয়া হয় সৃজন শীল সম্মাননা৷ বাদ-বাকি সকল অংশ গ্রহণকারীর হাতে তুলে দেওয়া হয়' প্রতিভা সাহিত্য পদক' ও মানপত্র৷
গুনি জনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট্য সমাজ সেবী ও উদ্যোগপতি শ্রী অমর চাঁদ কুন্ডু, বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী শ্রী গোপাল কুন্ডু, কান্দরা কলেজের প্রিন্সিপাল মৃণালকান্তি চট্টোপাধ্যায়, বিশিষ্ট্য শিক্ষাবিদ মহাম্মদ জাকারিয়া, উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট্য ব্যবসায়ী সামসুল আলম, বি.এল.আর.ও(প্রাক্তন) কামরুল ইসলাম, চারণ কবি সামসুল হুদা কানু, গল্পাকার নুরুল হুদা, সাহিত্যিক এ.মতলেব,
তাপশ বন্ধ্যপাধ্যায়,
রহিম রাজা(গুপিযন্ত্র-সম্পদক,প্রকাশক) চাঁদ রায় (কবি) গনপতি ঘোষ,তপণ কুমার বৈরাগ্য (ছোট নদি) বাদল মান্ডি, রমাদেব নাথ, দেবি রাহা মিত্র,ভগবাদূর সিং,দিলিপকুমার মন্ডল, RTO অফিসের কর্মী মহিদুল ইসলাম, দমকল বিভাগের কর্মী সফিউর রহমান,জসিম সেখ, সৌরভ মন্ডল,পারুল প্রকাশনির প্রতিনিধি বাদশা সেখ, সমাজ বার্তা সংবাদ পত্রের কর্নধার মুস্তাফা সেখ৷ শুধু পার্শ্ববতী জেলা মুর্শিদা বর্ধমান,বীরভূম, মুর্শিদাবাদই নয় সূদূর নদীয়া, মেদিনীপুর,হাওড়া,পুরুলিয়া,বাঁকুড়া, কোলকাতা থেকেও কবি সাহিত্যিকদের এই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দেখা যায়৷ বর্ধমান শহর থেকে এসেছিলেন সাহিত্যিক বেনজির নাজ, মেদিনী পুর থেকে কবি সেখ রমজান আলি, নদীয়া থেকে বাদল মান্ডী সহ বেশ কয়েক এসেছিলেন৷ লোক সংখ্যা দুই শতের কাছাকাছি৷ অনুষ্ঠানের মধ্যে চলতে থাকে প্রতিভার থিম সঙ্গীত যেটা রচনা করেছেন বিশিষ্ট্য সাহিত্যিক ধনঞ্জয় গুঁই৷ সুর দিয়েছেন বিশিষ্ট্য সুরকার ও সংগীতজ্ঞ শ্রী মৃন্ময় সিদ্ধান্ত এবং সার্বিক ভাবে সহযোগীতা করেছেন আকাশবানী কলকাতার বিশিষ্ট্য গীতিকার শ্রী সৌমিত্র মজুমদায৷ আরও উপস্থিত ছিলেন যাত্রা শিল্পী হানিফ, সাহিত্যিক ভগবাহাদুর সিং, উদয় কুন্ডু, অসিকার রহামান , মনিরা বেগম, আব্দুল রফিক খান, শাহ ওলিওল পাপনও শিক্ষক তরুন কান্তি ঘোষ,৷ সারাদিন ব্যাপি ঊক জমজমাট কবিতা উৎসব চলতে থাকে৷