মুজাহিদ: যথাযথ তদন্ত ছাড়াই আমেরিকা আফগানিস্তানে হামলা চালিয়েছিল
কাবুল, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — ৯/১১ হামলার বর্ষপূর্তিতে আফগানিস্তানের ইসলামিক আমিরাতের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ টোলোনিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যথাযথ তদন্ত ছাড়াই আফগানিস্তান ও ইসলামিক আমিরাতকে অভিযুক্ত করে সামরিক আগ্রাসন চালায়।
মুজাহিদ জানান, আল-কায়েদার তৎকালীন নেতা ওসামা বিন লাদেন ইসলামিক আমিরাত প্রতিষ্ঠার আগেই আফগানিস্তানে প্রবেশ করেছিলেন এবং আমিরাতের শাসনামলে তাকে “সীমিত ও নিয়ন্ত্রিত অবস্থায়” রাখা হয়েছিল।
তিনি আরও জানান, সে সময় ইসলামিক আমিরাত ওয়াশিংটনের কাছে দুটি বিকল্প প্রস্তাব দিয়েছিল—
-
আফগান আদালতে বিন লাদেনের বিরুদ্ধে মামলা চালিয়ে স্বচ্ছ তদন্ত করা, অথবা
-
আফগানিস্তান, সৌদি আরব এবং আরেকটি ইসলামি দেশের অংশগ্রহণে একটি যৌথ আদালত গঠন করা।
মুজাহিদ জোর দিয়ে বলেন, আফগান মাটি কোনো দেশের, এমনকি যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধেও ব্যবহার করা হবে না।
দোহা চুক্তির প্রসঙ্গ তুলে তিনি আহ্বান জানান, ওয়াশিংটন যেন আফগানিস্তানের প্রতি স্বাভাবিক নীতি অবলম্বন করে এবং সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়ে সম্পর্ক স্থাপন শুরু করে। তাঁর কথায়, “আমরা চাই যুক্তরাষ্ট্র তার অস্বাভাবিক অতীত নীতি পরিবর্তন করুক এবং আফগানিস্তান যেন সব দেশের সঙ্গে সুসম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।”
এদিকে, সম্প্রতি ফক্স নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শিকাগোর সহিংসতার সঙ্গে আফগানিস্তানের তুলনা করেন। তিনি বলেন: “প্রতি সপ্তাহে ওখানে ৬, ৭, ৮, ৯ জন মারা যাচ্ছে। ৩০ থেকে ৪০ জন গুলিবিদ্ধ হচ্ছে। এটা আফগানিস্তানের চেয়েও খারাপ। এরকম কোনো শহর নেই।”
প্রসঙ্গত, আগস্ট ২০২১ সালে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর কাবুল-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক অনিশ্চিত রয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্র এখনো ইসলামিক আমিরাত সরকারের স্বীকৃতি দেয়নি এবং আফগানিস্তানের বিপুল পরিমাণ সম্পদ বিদেশি ব্যাংকে জমাট অবস্থায় রয়েছে।
— টোলোনিউজ প্রতিবেদন, বিবি আমিনা হাকিমি