জাতিসংঘ অধিবেশনে ট্রাম্পকে ঘিরে একাধিক ঘটনা, কূটনৈতিক মহলে চাঞ্চল্য
নিউইয়র্ক, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ — জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের চলমান অধিবেশনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ঘিরে একাধিক ঘটনা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সিঁড়ি বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা
মঙ্গলবার (২৩ সেপ্টেম্বর) জাতিসংঘ ভবনে প্রবেশকালে ট্রাম্প ও তাঁর স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প ওঠার সময় হঠাৎই চলন্ত সিঁড়ি (এস্কেলেটর) বন্ধ হয়ে যায়। পরে জাতিসংঘ জানায়, ট্রাম্পের ভিডিওগ্রাহক পেছনের দিকে হাঁটতে গিয়ে অসাবধানতাবশত নিরাপত্তা বোতাম টিপে ফেলেছিলেন। এ কারণেই সিঁড়ি বন্ধ হয়ে পড়ে।
ঘটনাটি নিয়ে ট্রাম্প নিজের ভাষণেও হালকা রসিকতা করে বলেন, “জাতিসংঘ থেকে আমি দুটি জিনিস পেয়েছি—একটি খারাপ সিঁড়ি আর একটি খারাপ টেলিপ্রম্পটার।”
তবে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বিষয়টিকে হালকাভাবে নেননি। তিনি এক্স (পূর্বতন টুইটার)-এ লিখেছেন, “যদি ইচ্ছাকৃতভাবে সিঁড়ি বন্ধ করা হয়ে থাকে, তবে দায়ী ব্যক্তিকে অবিলম্বে বরখাস্ত ও তদন্ত করতে হবে।”
জিমি কিমেল বিতর্ক
একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এসেছে জনপ্রিয় টক শো উপস্থাপক জিমি কিমেলকে ঘিরে ট্রাম্পের প্রতিক্রিয়া। এবিসি টেলিভিশন চ্যানেল কিমেলের অনুষ্ঠান পুনরায় চালু করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ট্রাম্প ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এবং চ্যানেলের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছেন।
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, এবিসি “ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে ইতিবাচক প্রচারণা চালাচ্ছে” এবং কিমেল আসলে ডেমোক্র্যাট ন্যাশনাল কমিটির হাতিয়ার।
জাতিসংঘে ট্রাম্পের ভাষণ
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ভাষণ দিতে গিয়ে ট্রাম্প কঠোর সুরে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার বিরোধিতা করেন এবং হামাসের হাতে আটক ইসরায়েলি জিম্মিদের অবিলম্বে মুক্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি গাজায় যুদ্ধ থামানোর আহ্বান জানান।
এ ছাড়া তিনি জাতিসংঘের নীতিকে আক্রমণ করে বলেন, অভিবাসনের কারণে ইউরোপ “মৃত্যুর পথে” যাচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তনকে তিনি “প্রতারণা” বলে আখ্যা দেন।
আরব–মুসলিম নেতাদের সঙ্গে বৈঠক
অধিবেশনের ফাঁকে ট্রাম্প কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেজেপ তাইয়েপ এরদোয়ানসহ বেশ কয়েকজন আরব ও মুসলিম নেতার সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে তিনি গাজা যুদ্ধ দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দেন। এরদোয়ান বৈঠককে “অত্যন্ত ফলপ্রসূ” বলে উল্লেখ করেন এবং গাজার ঘটনাকে “গণহত্যা” হিসেবে বর্ণনা করেন।
সার্বিক প্রেক্ষাপট
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের এ অধিবেশন এবার মধ্যপ্রাচ্যের সংকট, বিশেষ করে গাজার যুদ্ধকে ঘিরেই আলোচনায় প্রাধান্য পাচ্ছে। ট্রাম্পের আচরণ ও বক্তব্য যেমন বিতর্ক তৈরি করছে, তেমনি আন্তর্জাতিক মহলও যুদ্ধবিরতির পক্ষে জোরালো আহ্বান জানাচ্ছে।