Tranding
মধ্যপ্রাচ্য / November 23, 2025

গাজাবাসীদের ‘অস্থায়ী স্থানান্তরের পরিকল্পনা’ আমারই ছিল—দাবি সাবেক মোসাদ প্রধানের

ইসরাইলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাবেক প্রধান ইয়োসি কোহেন তার সদ্য প্রকাশিত বইয়ে দাবি করেছেন, বর্তমান গাজা যুদ্ধের শুরুতে তিনি নিজেই ফিলিস্তিনিদের গাজা উপত্যকা থেকে সিনাইয়ে ‘অস্থায়ীভাবে স্থানান্তর’ করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি ওই পরিকল্পনা সরাসরি প্রত্যাখ্যান করায় তা বাস্তবায়ন হয়নি।

ইসরাইলি গণমাধ্যমে প্রকাশিত বইটির বিশদ পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, কোহেনের পরিকল্পনায় প্রায় দেড় মিলিয়ন গাজাবাসীকে সাময়িকভাবে মিশরে আশ্রয় দেওয়ার কথা ছিল। ইসরাইলি নিরাপত্তা মন্ত্রিসভা এই প্রস্তাবে নীতিগত সম্মতি দিলেও আরব রাষ্ট্রগুলো ভয় পেয়েছিল যে এই স্থানান্তর ‘সাময়িক’ নয়, স্থায়ী হয়ে যেতে পারে।

কোহেনের দাবি, তিনি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন, জাপান, চীন ও ভারতের কাছ থেকে ‘অস্থায়ী থাকার’ আন্তর্জাতিক গ্যারান্টি আনার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মিশর স্পষ্ট জানিয়ে দেয়—গাজাবাসীদের স্থানান্তর কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এতে প্রকল্পটি ভেস্তে যায়।

মোসাদের গোপন কর্মকাণ্ড ও কোহেনের ভূমিকা

বইটিতে কোহেন বিভিন্ন দেশে ছদ্মবেশে কাজ করার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন—কখনো প্রত্নতত্ত্ববিদ, কখনো চায়ের ব্যবসায়ী, আবার কখনো পর্যটকের পরিচয়ে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, মোসাদের নজরদারি পদ্ধতি ও তথ্য সংগ্রহের কৌশল বহু পুরোনো গোয়েন্দা পদ্ধতিরই আধুনিক রূপ।

তিনি আরও দাবি করেন, বহু আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসী হামলা ঠেকাতে বা হামলার সূত্র উদ্‌ঘাটনে মোসাদ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে—যার জন্য ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও অস্ট্রেলিয়ার একাধিক গোয়েন্দা সংস্থা তাদের কাছে কৃতজ্ঞ।

ইসরাইলি প্রচারণার ব্যর্থতা নিয়ে হতাশা

কোহেন বইয়ে উল্লেখ করেছেন, গাজায় ইসরাইলি হামলার বিরুদ্ধে বিশ্বব্যাপী জনমতের চাপ বাড়াকে তিনি ‘প্রচারযুদ্ধের ব্যর্থতা’ হিসেবে দেখেন। তার মতে, ইসরাইল যথাযথভাবে বিশ্বের সামনে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরতে পারেনি। তবে সমালোচকেরা বলছেন—বিশাল মানবিক বিপর্যয়ই বিশ্ববাসীকে ক্ষুব্ধ করছে, প্রচারণা নয়।

শান্তি প্রশ্নে কোহেনের অবস্থান

তিনি দাবি করেন, শান্তি আসে ‘শক্তির প্রদর্শনের’ পরই। একইসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, শক্তিশালী নেতা কখনো কখনো ছাড় দিতে পারে—যেমন ১৯৭৮ সালে মিসরের সঙ্গে ইসরাইলের শান্তিচুক্তিতে হয়েছিল। কোহেন আরও জানান, আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরের সময় তিনি আবেগে কেঁদে ফেলেছিলেন।

ইসরাইলি রাজনীতিতে ভবিষ্যৎ ভূমিকা?

বইয়ের বিশ্লেষকদের মতে, নিজের কৃতিত্ব, দক্ষতা, আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং শক্ত অবস্থান তুলে ধরে কোহেন ভবিষ্যতে ইসরাইলের রাজনীতিতে বড় পদে আসীন হতে চাইতে পারেন। বইটি যেন তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের সম্ভাব্য প্রস্তুতি।

 

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.