নাসরাল্লাহর শেষ অধ্যায়: তেহরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন, লুকানো রহস্য উন্মোচিত
“হিজবুল্লাহ”-এর সাবেক মহাসচিব হাসান নাসরাল্লাহর হত্যাকাণ্ডের আগে শেষ কয়েক মাসে লেবানন জুড়ে চলা “হরব আল-ইসনাদ” বা ‘সহায়তা যুদ্ধ’ আসলে রূপ নেয় রক্তক্ষয়ী পূর্ণাঙ্গ সংঘাতে। ইরানের সহায়তায় টিকে থাকা চার দশকের “ইসলামী প্রতিরোধ” হঠাৎ ভেঙে পড়ে কৌশলগত ভুল ও তথ্য বিভ্রাটে।
তদন্তে জানা যায়, ইসরাইলি টার্গেটেড হামলায় নিহত তিন শীর্ষ কমান্ডার — তালিব আবদুল্লাহ, ইব্রাহিম আকিল ও ওয়াসাম আল-তাওয়িল — ছিলেন নাসরাল্লাহর “তিন চোখ”। তাদের মৃত্যুতে হারিয়ে যায় গুরুত্বপূর্ণ ময়দানি জ্ঞান ও যুদ্ধ পরিচালনার নেটওয়ার্ক। ফলে নাসরাল্লাহ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন বাস্তব পরিস্থিতি থেকে।
২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সংঘাতে নিহত হন প্রায় ৩,৭৬৮ জন, আহত ১৫,০০০ এরও বেশি। ইসরাইলি বিমান হামলায় “হিজবুল্লাহ” হারায় অন্তত ২,৫০০ যোদ্ধা, যার মধ্যে ছিলেন বহু জ্যেষ্ঠ কমান্ডার।
লেবাননের বহু সূত্র জানায়, নাসরাল্লাহ বিশ্বাস করতেন যুদ্ধ “নিয়ন্ত্রিত সংঘর্ষের সীমায়” থাকবে এবং ইরান শেষ পর্যন্ত যুদ্ধ থামাবে। কিন্তু ইরানও ক্রমে নিজস্ব সংকটে পড়ে পিছিয়ে যায়।
এক ইরাকি সূত্র জানায়, “ইরান ও নাসরাল্লাহ উভয়ই ভেবেছিলেন পুরোনো নীতি এখনো কার্যকর, কিন্তু বাস্তবে যুদ্ধের ধরন বদলে গেছে।”
২০২৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর বৈরুতের দাহিয়াহ অঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় নাসরাল্লাহ নিহত হন। তার সঙ্গে মারা যান ইরানের “কুদস ফোর্স”-এর উপপ্রধান আব্বাস নিফোরুশান।
এই হামলার পর প্রশ্ন ওঠে— “কে কাকে ফাঁসালো: ইরান কি হিজবুল্লাহকে, নাকি হিজবুল্লাহ ইরানকে?”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নাসরাল্লাহর পতন শুধু সামরিক নয়, বরং একটি মতাদর্শেরও পতন — যেখানে “প্রতিরোধের ঐক্য” ভেঙে গেছে ইরান ও লেবাননের মাটির মাঝে।