গাজা থেকে প্রায় অর্ধমিলিয়ন মানুষের বাস্তুচ্যুতি
বঙ্গদর্পণ অনলাইন | প্রকাশ: ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ - ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে গাজা শহর থেকে ব্যাপক হারে মানুষের বাস্তুচ্যুতি ঘটছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স কর্তৃপক্ষ শুক্রবার জানিয়েছে, আগস্টের শেষ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ শহর ছেড়ে দক্ষিণাঞ্চলে আশ্রয় নিয়েছে।
গাজার সিভিল ডিফেন্সের মেডিক্যাল সাপ্লাই ডিরেক্টর মোহাম্মদ আল-মুগাইর ফরাসি সংবাদ সংস্থাকে জানান, ‘‘আগস্টে শুরু হওয়া সামরিক অভিযানের পর থেকে অন্তত ৪৫০ হাজার মানুষ গাজা শহর ছেড়ে দক্ষিণে চলে গেছেন।’’
অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী দাবি করেছে, আগস্টের শেষ থেকে গাজা শহর থেকে প্রায় ৪ লাখ ৮০ হাজার মানুষ পালিয়ে গেছে। তবে জাতিসংঘের হিসেবে অভিযানের আগে শহরটিতে প্রায় এক মিলিয়ন বাসিন্দা ছিল।
বাসিন্দাদের অভিযোগ, শহর ছাড়ার চেষ্টা করলেও উচ্চ ব্যয় ও দীর্ঘ সময়ের কারণে দক্ষিণে পৌঁছানো অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। এদিকে গাজার প্রধান সড়কগুলোতে হাজার হাজার মানুষ ভিড় জমাচ্ছেন, কেউ হেঁটে আবার কেউ যানবাহনে করে দক্ষিণমুখী হচ্ছেন।
ইসরায়েলি সেনারা দাবি করেছে, গাজা শহর থেকে দক্ষিণে আশ্রয় নেওয়া লোকজনকে তারা খাবার, ওষুধ ও তাঁবু দেবে। তবে বাস্তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ঘোষিত অনেক তথাকথিত ‘মানবিক অঞ্চল’ ও ‘নিরাপদ স্থান’-এও বিমান হামলা চালানো হয়েছে।
জাতিসংঘ মহাসচিবের সতর্কবার্তা
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস জেনেভায় এক বক্তব্যে বলেছেন, ‘‘বিশ্ব সম্প্রদায়কে ইসরায়েলের প্রতিক্রিয়া নিয়ে ভীত হওয়া উচিত নয়। কারণ যাই করা হোক না কেন, এই হামলা চলবেই। অন্তত আন্তর্জাতিক মহল একসাথে চাপ সৃষ্টি করলে হয়তো পরিস্থিতি কিছুটা ঠেকানো সম্ভব হবে।’’
তিনি আরও বলেন, গাজায় যে মাত্রার ধ্বংসযজ্ঞ ও মানবিক বিপর্যয় চলছে তা তার জীবনে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। তবে তিনি এটিকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যা দিতে অস্বীকৃতি জানান, যদিও জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা ইতোমধ্যেই এ শব্দটি ব্যবহার করেছে।
ইসরায়েলের হুমকি
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী শুক্রবার গাজা শহরের প্রধান সড়ক সালাহউদ্দিন রোড বন্ধ করে দেয় এবং জনগণকে সতর্ক করে জানায়, তারা দক্ষিণে না গেলে ‘‘অভূতপূর্ব শক্তি’’ দিয়ে সামরিক অভিযান চালানো হবে।
তাদের দাবি, ইতোমধ্যে প্রায় অর্ধমিলিয়ন মানুষ শহর ত্যাগ করেছে, তবে ফিলিস্তিনি পক্ষ বলছে, অভিযানের আগে গাজা শহরে এক মিলিয়নেরও বেশি মানুষ বসবাস করত।
আঞ্চলিক উত্তেজনা
এদিকে ইসরায়েলের হামলার প্রেক্ষাপটে লেবাননেও উত্তেজনা বাড়ছে। দক্ষিণ লেবাননে একাধিক বিমান হামলার পর দেশটির মন্ত্রিসভার সূত্র জানিয়েছে, তারা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং আগামী রবিবার মার্কিন দূত মরগান অর্টাগাসের উপস্থিতিতে বৈঠক ডাকার পরিকল্পনা করছে।
হিজবুল্লাহর ডেপুটি সেক্রেটারি জেনারেল শেখ নাঈম কাসেম অবশ্য পরিস্থিতি শান্ত রাখার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘আমাদের প্রতিরোধ শক্তির লক্ষ্য কেবল ইসরায়েল।’’