পশ্চিম তীরে ইহুদি চরমপন্থিদের হামলায় নিন্দা জানালেন নেতানিয়াহু
ব্যক্তিগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা
ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরে ইহুদি চরমপন্থিদের সাম্প্রতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, অল্প কয়েকজন উগ্রপন্থির এসব কর্মকাণ্ড মূলধারার বসতকারীদের প্রতিনিধিত্ব করে না এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করবেন।
বেথলেহেমের কাছে ফিলিস্তিনি গ্রাম আল-জাবা’য় হামলার ঘটনা সামনে আসার পর নেতানিয়াহু এই প্রতিক্রিয়া জানান। ধারণা করা হচ্ছে, একই এলাকায় অবস্থিত একটি অবৈধ আউটপোস্ট উচ্ছেদের জেরে ওই হামলা হয়েছিল। জাতিসংঘের মানবিক বিষয়ক দপ্তর (ওসা) জানায়—অক্টোবর মাসে পশ্চিম তীরে বসতকারীদের হামলার সংখ্যা বিগত দুই দশকের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি, যার ফলে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি হয়েছে।
এক বিবৃতিতে নেতানিয়াহু বলেন, “ইহুদা ও সামারিয়া (পশ্চিম তীর) অঞ্চলে কয়েকজন চরমপন্থির সহিংসতাকে আমি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। তারা নিজেদের হাতে বিচার নেওয়ার চেষ্টা করছে—এটি গ্রহণযোগ্য নয়।”
এদিকে সোমবার ইসরায়েলি পুলিশ ও সেনারা গুশ এৎসিয়ন এলাকায় অবস্থিত অবৈধ আউটপোস্ট ‘ছুর মেসগাফি’ ভেঙে দেয়। বুলডোজার দিয়ে স্থাপনাটি অপসারণের সময় বসতকারীদের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে এবং সেনারা ধোঁয়া ও শব্দ বোমা ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পূর্ব জেরুজালেম বাদে বর্তমানে পশ্চিম তীরে পাঁচ লাখের বেশি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী রয়েছে, যাদের বসতি আন্তর্জাতিক আইনে অবৈধ; এই অঞ্চলে প্রায় ৩০ লক্ষ ফিলিস্তিনি বসবাস করেন।
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ইসরায়েলের বিরোধীদলীয় নেতা ইয়াইর লাপিদ বলেন, এটি “সহিংসতার নতুন ধাপ”। বামঘেঁষা নেতা ইয়াইর গোলান একে বলেন “নিয়ন্ত্রণহীন ইহুদি সন্ত্রাসবাদ”। চরমপন্থি বসতকারী গোষ্ঠী ‘হিল টপ ইয়ুথ’-এর সঙ্গে যুক্ত একটি টেলিগ্রাম চ্যানেলে আল-জাবা’ গ্রামে জ্বালিয়ে দেওয়া একটি গাড়ির ভিডিও প্রকাশ করে লেখা হয়—“আজ উচ্ছেদ হওয়া আউটপোস্ট থেকে কয়েক মিনিটের দূরত্বে আল-জাবা’।”
ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিওন সা’আর মন্তব্য করেন, “এই দাঙ্গাবাজরা রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে, ইহুদিধর্মকে অপমান করছে এবং পুরো বসতি প্রকল্পকে ঝুঁকিতে ফেলছে।” প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাত্জ বলেন, সরকার বসতি “উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ” অব্যাহত রাখবে, তবে আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখা হবে। তার ভাষায়, সহিংস বসতকারীরা “দুর্বৃত্ত অপরাধী”। দায়িত্ব নেওয়ার পর তিনি বসতকারীদের বিরুদ্ধে জারি থাকা কিছু প্রশাসনিক গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাতিল করেছিলেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বিবৃতিতে জানায়, বসতকারীদের এ ধরনের হামলা তাদের মূল দায়িত্ব—প্রতিরক্ষা ও সন্ত্রাসবিরোধী কর্মকাণ্ড—থেকে মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে। ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচ বলেন, উচ্ছেদ হওয়া আউটপোস্টটি এমন একটি জমিতে গড়ে উঠেছিল যেখানে সরকারি নির্মাণকাজ চলছিল। তিনি মন্তব্য করেন, “আমাকে কেউ বসতি নির্মাণ শেখাবে না।”
১৯৬৭ সাল থেকে বিভিন্ন সরকারের আমলেই পশ্চিম তীরে বসতি নির্মাণ অব্যাহত রয়েছে। তবে বর্তমান সরকারের সময়ে—বিশেষ করে গাজায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে—এ নির্মাণ কার্যক্রম আরও দ্রুতগতিতে বাড়ছে।