ভারত-পাক দ্বিপাক্ষিক বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না নয়াদিল্লি: ইশাক দার
১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, পাকিস্তানের বিদেশমন্ত্রী তথা উপপ্রধানমন্ত্রী ইশাক দার দাবি করেছেন, ভারত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কিত যে কোনও সমস্যা দ্বিপাক্ষিক পর্যায়েই সমাধান হবে। এই বিষয়ে তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ নয়াদিল্লি চায় না। ‘আল জাজিরা’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দার বলেন, মে মাসে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর পাকিস্তান আলোচনার পথ খোলা রেখেছিল। তবে ভারত এ ব্যাপারে অন্য কারও মধ্যস্থতা মেনে নিতে নারাজ। ইশাক দার জানান, গত ১১ মে সকালে মার্কিন বিদেশমন্ত্রী মার্কো রুবিয়ো তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেন। তখনই তাঁকে জানানো হয়েছিল যে, শীঘ্রই একটি নিরপেক্ষ স্থানে ভারত-পাক আলোচনার আয়োজন করা হবে। পরবর্তীতে ২৫ জুলাই ওয়াশিংটনে পাকিস্তান-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে দার এ বিষয়ে রুবিয়োর সঙ্গে পুনরায় আলোচনা করেন। সেখানে রুবিয়ো তাঁকে জানান, ভারত বলেছে বিষয়টি কেবলমাত্র দ্বিপাক্ষিক। দারের কথায়, “আমরা শান্তিপ্রিয় দেশ। আমরা বিশ্বাস করি আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়া উচিত। তবে এতে দু’দেশের অংশগ্রহণ জরুরি। ভারত যদি আলোচনায় বসতে না চায়, তবে আমরা জোর করতে পারি না।” তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৭২ সালের সিমলা চুক্তিতেও উল্লেখ ছিল যে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সব সমস্যার সমাধান দ্বিপাক্ষিক স্তরেই হবে। ১৯৯৯ সালের লাহোর ঘোষণার সময়ও ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটলবিহারী বাজপেয়ী এবং পাকিস্তানের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের বৈঠকে একই বিষয় উঠে এসেছিল। উল্লেখ্য, ২২ এপ্রিল পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার নেপথ্যে পাকিস্তানের মদত রয়েছে বলে অভিযোগ তোলে ভারত। তারই জেরে ৭ মে ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ চালায়। এরপর দুই দেশের মধ্যে চার দিনের সংঘাত শুরু হলেও সংঘর্ষবিরতির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, এই যুদ্ধবিরতি হয়েছে আমেরিকার মধ্যস্থতায়। যদিও ভারত বরাবরই তা অস্বীকার করে আসছে। পাকিস্তান অবশ্য যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকাকে স্বীকার করে প্রশংসা করেছে।
সংক্ষেপে: ভারত ও পাকিস্তান ১০ মে সংঘর্ষবিরতিতে রাজি হয়। ঘোষণার পরেও সীমান্তে গোলাগুলির অভিযোগ ওঠে। ১১ মে সকাল থেকে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।