প্রাথমিক শিক্ষকদের ব্রিজ কোর্স ও যোগ্যতা সংক্রান্ত পুরনো বিজ্ঞপ্তি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদন:
২০১২ সালে জাতীয় শিক্ষক শিক্ষা পরিষদের (NCTE) নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদ (WBBPE) প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল। সেই বিজ্ঞপ্তির ভিত্তিতেই ছয় মাসের ব্রিজ কোর্স, রবীন্দ্র মুক্ত বিদ্যালয় বা NIOS-এর মাধ্যমে উচ্চমাধ্যমিকে ৫০% বা ৪৫% নম্বরসহ উত্তীর্ণ হওয়া, এবং D.El.Ed. কোর্সের জন্য একাধিক ‘কাট-অফ ডেট’ ঘোষণা করা হয়।
এই বিজ্ঞপ্তি সম্পর্কিত তথ্য ২০১২ সালের ১৪ নভেম্বর তারিখে বেশ কিছু রাজ্যস্তরের সংবাদপত্রে প্রকাশিত হয়েছিল। শিক্ষা দপ্তর সূত্রে জানা যায়, আপগ্রেডেশনের ক্ষেত্রে এই কাট-অফ তারিখগুলো পরবর্তীতে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
তবে বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, রাজ্য সরকার তখন থেকেই NCTE-র এই নির্দেশগুলি সম্পর্কে পূর্ণভাবে অবগত থাকলেও, রাজ্য সরকারের সেই বিজ্ঞপ্তির কোথাও TET (Teacher Eligibility Test)-এর কোনো উল্লেখ ছিল না।
প্রাথমিক স্তরে WBBPE কিছু পদক্ষেপ নিলেও, মধ্যশিক্ষা পর্ষদ (WBBSE)-এর তরফে ক্লাস V-VIII পর্যায়ে একই ধরনের কোনো পরিকল্পনা বা উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তখন WBBSE-র অধীন স্কুলগুলিতে ‘আপার প্রাইমারি’ নামে কোনো আলাদা বিভাগও ছিল না — সব স্কুলই ছিল ‘নর্মাল’ বা ‘উচ্চমাধ্যমিক’ সেকশনভিত্তিক। ফলে NCTE-র নির্দেশাবলী কেবল প্রাথমিক পর্ষদ পর্যন্তই সীমাবদ্ধ থেকে যায়।
উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০১৬ সাল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্কুলগুলিতে নর্মাল সেকশন বিভাজনের প্রক্রিয়া শুরু হলেও, তা আজও অসম্পূর্ণ। ইন-সার্ভিস শিক্ষকদের যোগ্যতা বা প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত একাধিক NCTE বিজ্ঞপ্তির পরেও মধ্যশিক্ষা পর্ষদ কার্যত নীরব অবস্থান বজায় রেখেছে।
শিক্ষক মহলের মতে, সেই নীরবতাই আজ রাজ্যের শিক্ষা প্রশাসনের জন্য ‘বুমেরাং’ হয়ে ফিরে এসেছে