সংবাদ প্রতিবেদন, কাকদ্বীপ কালীমূর্তি ভাঙা কাণ্ডে নতুন মোড়: চক্রান্তের অভিযোগ বিজেপি নেতৃত্বের বিরুদ্ধে
কাকদ্বীপ কালীমূর্তি ভাঙা ঘটনাকে ঘিরে তীব্র রাজনৈতিক চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন জেলায়। সূত্রের খবর, এই ঘটনায় বিজেপির মথুরাপুর লোকসভা মোর্চার সভাপতি নবেন্দু নস্কর-এর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ, তিনিই প্রথম কালীমূর্তি ভাঙার ভিডিও প্রকাশ করে তা মুসলিম সম্প্রদায়ের উপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করেন এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার চেষ্টা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, এই ঘটনার সঙ্গে শুধুমাত্র অভিযুক্ত নারায়ণ হালদার নন, বরং নবেন্দু নস্কর ছাড়াও বিজেপির কাকদ্বীপ যুব মোর্চার নেতা পলাশ রানা ও আরও কয়েকজন যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, তাদের “কললিস্ট” এবং WhatsApp চ্যাট পর্যালোচনা করলে গোটা ষড়যন্ত্রের চিত্র স্পষ্ট হয়ে যাবে।
এও দাবি করা হচ্ছে, এই ঘটনার পেছনে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নামও উঠে এসেছে। অভিযোগ, শুভেন্দু অধিকারী সুন্দরবন সফরে এসে স্থানীয় মানুষের বিরোধিতার মুখে পড়ার পর নবেন্দু, পলাশ ও অন্যান্য বিজেপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে এই চক্রান্তের পরিকল্পনা করেন।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, সাগর, পাথরপ্রতিমা, নামখানা, কাকদ্বীপ বা রায়দিঘী— সুন্দরবনের এই অঞ্চলে আগে কখনো এমন সাম্প্রদায়িক উত্তেজনার ঘটনা ঘটেনি। হিন্দু ও মুসলমানরা বরাবরই একে অপরের উৎসবে সামিল হয়ে শান্তিতে বসবাস করে আসছেন।
প্রশাসনের তৎপরতায় পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং ঘটনা নিয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয় মানুষের দাবি, প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ায় বিজেপির “চক্রান্ত” প্রকাশ্যে এসেছে।
বাসিন্দাদের আহ্বান জানানো হয়েছে, এলাকায় কেউ যদি সন্দেহজনকভাবে কোনো বিভাজনমূলক কার্যকলাপ বা ষড়যন্ত্রের চেষ্টা লক্ষ্য করেন, তবে দ্রুত প্রশাসনকে জানাতে।