Tranding
আর্ন্তজাতিক / December 14, 2025

অপহরণ থেকে মুক্ত নাইজেরীয় শিশুদের পরিবারের কাছে ফেরানো হলো

গত মাসে সশস্ত্র হামলাকারীদের হাতে অপহৃত হওয়া নাইজেরিয়ার শতাধিক শিক্ষার্থীকে মুক্ত করার পর গভীর রাতে তাঁদের পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে। সন্তানদের ফিরে পেয়ে স্বস্তি ও আনন্দ প্রকাশ করেছেন বহু অভিভাবক, যদিও এখনো অনেক শিশু নিখোঁজ রয়েছে।

অভিভাবক লুকা ইলাইয়া বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে বলেন, তাঁর এক সন্তান মুক্ত হলেও আরেকজন এখনো অপহরণকারীদের হাতে রয়েছে। তিনি বলেন, “সময়টা আমার জন্য খুব কঠিন ছিল। তবু আজ কিছুটা আনন্দ অনুভব করছি। এখনও এক সন্তান বন্দি থাকলেও, এই সন্তানকে ফিরে পাওয়ায় আমি কৃতজ্ঞ।”

মুক্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন ছিল ১০০ শিক্ষার্থীর দলে, যাদের চলতি সপ্তাহের শুরুতে মুক্ত করা হয়। গত ২১ নভেম্বর নাইজেরিয়ার একটি ক্যাথলিক বোর্ডিং স্কুলে হামলা চালিয়ে সশস্ত্র ব্যক্তিরা এসব শিক্ষার্থীকে অপহরণ করেছিল।

নাইজারের রাজ্যের বাবেরি গ্রামের ওই স্কুল থেকে ৩০০–এর বেশি শিক্ষার্থী ও কর্মচারীকে অপহরণ করা হয়। এটি গত এক দশকে নাইজেরিয়ায় ঘটে যাওয়া ধারাবাহিক গণ–অপহরণের সর্বশেষ ঘটনা। এর কয়েক দিন আগেই প্রতিবেশী কেব্বি রাজ্য থেকেও ২৫ শিক্ষার্থী অপহৃত হয়।

সরকার এখনো বাবেরি থেকে মুক্ত হওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। পাশাপাশি কমপক্ষে ১৫০ শিশু ও কর্মচারী এখনো অপহরণকারীদের হাতে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে অপহরণের পরপরই অন্তত ৫০ শিক্ষার্থী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।

নাইজেরিয়ার খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, উদ্ধার করা ১০০ শিক্ষার্থীকে মঙ্গলবার তাদের পরিবারের সঙ্গে পুনর্মিলিত করা হবে। মধ্য নাইজেরিয়ার নাইজার রাজ্যে স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে তাদের নিজ নিজ বাড়িতে পাঠানো হয়।

২১ নভেম্বর ভোররাতে সেন্ট মেরি বোর্ডিং স্কুল থেকে সশস্ত্র ব্যক্তিরা ৩০০–এর বেশি শিক্ষার্থী ও ১২ জন কর্মচারীকে অপহরণ করে। এটি গত এক দশকের মধ্যে দেশটির সবচেয়ে ভয়াবহ গণ–অপহরণগুলোর একটি বলে বিবেচিত হচ্ছে।

খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের মুখপাত্র ড্যানিয়েল আতুরি বলেন, “আমরা বর্তমানে ১০০ শিক্ষার্থীকে নিয়ে মিননা থেকে বাবেরির পথে আছি। পরিবারের সদস্যরা স্কুলে আমাদের স্বাগত জানাবেন বলে আমরা আশা করছি।”

বাবেরি গ্রামটি নাইজার রাজ্যের রাজধানী মিননা থেকে প্রায় সাত ঘণ্টার গাড়ি পথ দূরে অবস্থিত।

অভিভাবক দুডা গুয়াংজা জানান, তাঁর ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে নিতে স্কুলে আসার জন্য ফোন পেয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা আমাদের সন্তানের সঙ্গে পুনর্মিলনের অপেক্ষায় আছি এবং প্রার্থনা করছি যেন এমন ঘটনা আর কখনো না ঘটে।”

এদিকে শিক্ষার্থীদের মুক্তির পর স্বস্তির অনুভূতি দ্রুতই প্রশ্নের মুখে পড়ে—কীভাবে এই উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হলো, তা নিয়ে নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে। প্রেসিডেন্ট বোলা টিনুবু কিংবা নাইজেরীয় সরকার এখনো অভিযান সম্পর্কে কোনো বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। মুক্তি আলোচনার মাধ্যমে, মুক্তিপণ দিয়ে, নাকি নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে হয়েছে—সে বিষয়টি স্পষ্ট নয়।

এক জ্যেষ্ঠ সরকারি কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, নিরাপত্তাজনিত কারণে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। তাঁর মতে, বিস্তারিত জানালে এখনো আটক শিশুদের মুক্তির প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। নাইজেরীয় সরকার বারবার দাবি করে আসছে, তারা অপহরণকারীদের কোনো মুক্তিপণ দেয় না।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.