ইরাকের নতুন সরকার গঠনে হস্তক্ষেপ নয়—ওয়াশিংটনের অবস্থান, বাগদাদ সফরে আসছেন মার্ক সাভাইয়া
ইরাকের নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া সামনে রেখে দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা আবারও আলোচনায় এসেছে। সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত মার্ক সাভাইয়া খুব শিগগিরই বাগদাদ সফরে আসছেন। সফরকে ঘিরে ইরাক–যুক্তরাষ্ট্র–ইরান সম্পর্কের অস্থির সমীকরণ নতুন করে গুরুত্ব পেয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেওয়া এক পোস্টে সাভাইয়া লিখেছেন, “আমি শিগগিরই ইরাক সফরে যাচ্ছি এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে সাক্ষাতের অপেক্ষায় আছি। গত তিন বছরে ইরাক যে অগ্রগতি করেছে, তা ধরে রাখার আশা করি। নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়াটি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট—সরকার গঠনে কোনো বাহ্যিক হস্তক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্র মেনে নেবে না।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাভাইয়ার এ সফর ওয়াশিংটনের নতুন কৌশলের ইঙ্গিত বহন করে। ইরাকের থিঙ্ক ট্যাঙ্ক প্রধান ইহসান আল–শামারি বলেন, “এই সফর যুক্তরাষ্ট্রের সক্রিয় প্রত্যাবর্তনের প্রতীক। সাভাইয়া সরাসরি কোনো শর্ত চাপিয়ে দেবেন না—যেমন ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা বা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্রহস্তান্তর। তবে সম্ভাব্য ইরানি প্রভাবকে আগেভাগে ঠেকানোই তাঁর লক্ষ্য।”
তিনি আরও বলেন, “ইরাকে রাজনৈতিক ভারসাম্য এখন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে ঝুঁকছে। ইরানের দূত পেছন থেকে সক্রিয় থাকলেও, মার্কিন দূতের প্রকাশ্য কূটনৈতিক উদ্যোগ ইরানি প্রভাবকে সীমিত করতে পারে।”
গত ১৯ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্ক সাভাইয়াকে ইরাকবিষয়ক বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেন। ইরাকি বংশোদ্ভূত মার্কিন ব্যবসায়ী সাভাইয়ার আঞ্চলিক পরিচিতি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষা করতে কাজে আসবে বলে ট্রাম্প মন্তব্য করেছিলেন।
তবে সাভাইয়ার নিয়োগকে ঘিরে মতভিন্নতা রয়েছে। কেউ এটিকে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন করে সক্রিয় হওয়ার সংকেত হিসেবে দেখছেন, আবার সমালোচকদের মতে—তিনি প্রচলিত কূটনৈতিক অভিজ্ঞতায় পিছিয়ে।
এদিকে ইরাকে নতুন সরকার গঠনের আলোচনা জোরদার হলেও ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। আশা করা হচ্ছে, সাভাইয়ার সফরের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি প্রতিনিধিদলও শিগগিরই বাগদাদে পৌঁছাবে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ওয়াশিংটনের বার্তা পৌঁছানোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা।
নতুন সরকার কীভাবে গঠিত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্র কোন অবস্থান নেবে—এ নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা থাকলেও, সাভাইয়ার সফরকে অনেকেই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ পরিবর্তনের সম্ভাব্য সূচনা হিসেবে দেখছেন।