বছরে ২০টি পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্র তৈরির উপকরণ উৎপাদনের অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিয়ং অভিযোগ করেছেন, উত্তর কোরিয়া প্রতি বছর এমন পরিমাণ পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন করছে, যা দিয়ে ১০ থেকে ২০টি পর্যন্ত পরমাণু অস্ত্র তৈরি করা সম্ভব। বুধবার নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
প্রেসিডেন্ট লি জানান, উত্তর কোরিয়া এখনও পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন চালিয়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে দেশটি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উন্নয়নও অব্যাহত রেখেছে, যার লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডে আঘাত হানা।
লি জে-মিয়ং সতর্ক করে বলেন, এক সময় উত্তর কোরিয়া এমন একটি পরমাণু অস্ত্রভাণ্ডার গড়ে তুলবে, যাকে তারা নিজেদের শাসনব্যবস্থা টিকিয়ে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বলে মনে করে। এই অস্ত্রভাণ্ডারের সঙ্গে আন্তঃমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র যুক্ত হলে তা শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, গোটা বিশ্বের জন্যই হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত পারমাণবিক উপকরণ মজুত হয়, তাহলে তা দেশের বাইরে পাচার হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। সেক্ষেত্রে বৈশ্বিক নিরাপত্তা মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়বে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উত্তর কোরিয়ার পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্টের প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি উত্তর কোরিয়া পারমাণবিক উপকরণ উৎপাদন, আন্তঃমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন এবং বিদেশে অস্ত্র রপ্তানি বন্ধ করে, তাহলে তা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে। তিনি জানান, এই প্রস্তাব তিনি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের কাছেও তুলে ধরেছেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুনে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই লি জে-মিয়ং কোনও পূর্বশর্ত ছাড়াই উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে সংলাপের চেষ্টা চালাচ্ছেন। এটি তাঁর পূর্বসূরির কঠোর নীতির থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে আলাদা।
তবে পিয়ংইয়াং এখনও পর্যন্ত দক্ষিণ কোরিয়ার এই উদ্যোগে সাড়া দেয়নি। বরং সম্প্রতি সীমান্তবর্তী শহর কাইসঙের আকাশে দক্ষিণ কোরিয়ার ড্রোন উড়ানোর অভিযোগ তুলেছে উত্তর কোরিয়া। যদিও দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট দপ্তর এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং জানিয়েছে, এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে সরকারি কোনও সংস্থার যোগ নেই। তবে বেসামরিক কারও জড়িত থাকার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।