Love Muhammad’ পোস্টার নয়, হাতে কলম ও কেতাব থাকা উচিত”— গেরুয়াধারি মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের মন্তব্যে বিতর্কের ঝড়
বঙ্গদর্পণ , প্রতিবেদন অনলাইন: দেশের একমাত্র গেরুয়াধারী মুখ্যমন্ত্রী শ্রীমান অজয় সিং বিষ্ট, যিনি যোগী আদিত্যনাথ নামে পরিচিত, ফের এক বিতর্কিত মন্তব্য করে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার ঝড় তুলেছেন। সম্প্রতি এক জনসভায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ছোট ছোট বাচ্চাদের হাতে কলম আর কেতাব হওয়া আবশ্যক ছিল, ‘I Love Muhammad’ পোস্টার নয়। ওরা জানেনা যে ওদের জীবন তো বরবাদ হয়েই আছে, এখন বাচ্চাদেরও বরবাদ করছে।”
যোগীর এই মন্তব্য ঘিরে দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য ধর্মীয় সম্প্রীতির পরিপন্থী এবং একটি সম্প্রদায়কে ইচ্ছাকৃতভাবে অপমান করার প্রচেষ্টা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনের আগে এমন উস্কানিমূলক ভাষণ সমাজে বিভেদ সৃষ্টির আশঙ্কা বাড়িয়ে তুলছে।
অন্যদিকে, যোগীর ঘনিষ্ঠ মহল দাবি করেছে যে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃত করে উপস্থাপন করা হয়েছে। তাদের মতে, তিনি কেবল শিক্ষা ও শৈশবের গুরুত্বের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন।
তবে নাগরিক সমাজের একাংশ প্রশ্ন তুলেছেন— গুরু গোরক্ষনাথজীর অনুসারী এই সন্ন্যাসী নেতার দৃষ্টি কেবল একপাক্ষিক কেন? সমালোচকদের ভাষায়, “গুরুজীর মাথাব্যথা কেবল মুহাম্মদের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শনকারীদের নিয়ে। কিন্তু যে কচিকাঁচা বাচ্চাদের হাতে বড় বড় ছোরা, তরোয়াল, কৃপাণ, লাঠি তুলে দেওয়া হচ্ছে, তাঁদের নিয়ে তাঁর করুণা কবে দেখা যাবে?”
এক সামাজিক কর্মীর ভাষায়, “আমাদের বিনম্র আবেদন— সন্ন্যাসী গুরুজী দ্বিচারিতার খোল থেকে বেরিয়ে আসুন। দেখুন, সেই বাচ্চাগুলোর দিকে, যাদের বাল্য, কৈশোর ও যৌবনের মূল্যবান দিনগুলো হাতিয়ার প্রশিক্ষণে হারিয়ে যাচ্ছে। ধর্ম নয়, শিক্ষা হোক তাঁদের ভবিষ্যতের পথ।”
উল্লেখ্য, যোগী আদিত্যনাথ এর আগেও একাধিকবার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়কে ঘিরে বিতর্কিত মন্তব্য করে বিরোধীদের নিশানায় এসেছেন। তবে তাঁর দল বলছে, তিনি কেবলমাত্র “সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদী অবস্থান” থেকে নিজের বক্তব্য প্রকাশ করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ধর্ম ও রাজনীতির এমন মিশ্রণ ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামোকে বিপন্ন করছে। আর সেই কারণেই সমাজের সকল অংশের তরফে এখন জোর দাবি উঠছে— রাজনীতি নয়, শিশুদের হাতে ফিরিয়ে দিন কলম ও কেতাব।