Tranding
রাজ্যের খবর / October 16, 2025

মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মেধাতালিকায় নেই একটিও মুসলিম নাম, উঠছে প্রশ্নের ঝড়

কলকাতা, ১৬ অক্টোবর ২০২৫:

পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশন (WBMSC) সম্প্রতি নবম, দশম ও একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির জন্য মোট ১৭টি বিষয়ে মেধাতালিকা প্রকাশ করেছে, যেখানে ২৯৭ জন সফল প্রার্থীর মধ্যে একজনও মুসলিম প্রার্থীর নাম নেই। এই ফলাফল প্রকাশের পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন মহলে উঠছে বিস্ময়, ক্ষোভ এবং প্রশ্ন— “মাদ্রাসায়ও কি আর মুসলিমদের স্থান নেই?”

গত ১৩ ও ১৪ অক্টোবর কমিশনের তরফে প্রকাশিত তালিকায় এই তথ্য সামনে আসতেই সংখ্যালঘু সমাজে ছড়িয়ে পড়েছে হতাশা। মাদ্রাসা, যেটি ঐতিহ্যগতভাবে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত, সেখানেই যখন একজন মুসলিম প্রার্থীর নামও সুপারিশ তালিকায় নেই, তখন তা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন তুলছে নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা এবং মূল্যায়নের মানদণ্ড নিয়ে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, "এটা কি শুধুই কাকতালীয়, নাকি এর পেছনে আছে কোনো সুপরিকল্পিত বৈষম্য? হাজার হাজার মুসলিম চাকরিপ্রার্থী অংশ নিলেন পরীক্ষায়, অথচ কারও নামই নেই? তাহলে কি মুসলিম প্রার্থীদের যোগ্যতা নেই, না তাদের যথাযথ মূল্যায়নই হয়নি?"

অনেকেই মনে করছেন, এটি শুধু নিয়োগের ব্যাপার নয়, এটি বাংলার সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের চিত্র তুলে ধরছে— কিভাবে তারা ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ছে। যদি মাদ্রাসার মতো সংখ্যালঘু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মুসলিম প্রার্থীরা সুযোগ না পান, তাহলে সাধারণ স্কুল-কলেজে তাদের অবস্থান কতটা কঠিন হবে তা সহজেই অনুমেয়।

সরকারি অবস্থান ও ভবিষ্যৎ প্রতিক্রিয়া

এখনও পর্যন্ত রাজ্য সরকারের তরফে বা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। তবে সংখ্যালঘু সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধি, শিক্ষক সংগঠন এবং সামাজিক সংগঠন ইতিমধ্যেই কমিশনের এই ফলাফলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন।

অনেকেই বলছেন, যদি সরকার সত্যিই সংখ্যালঘু উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয়, তাহলে এমন একটি স্পর্শকাতর বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে স্বচ্ছতা আনতে হবে। নতুবা, ভবিষ্যতে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে মাদ্রাসা শিক্ষা নিয়ে আগ্রহ হারানোর আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.