১৫ লক্ষ নয়, মাত্র ২৫ হাজার টাকায় শিশুর প্রাণ বাঁচালেন কেজিএমইউ-র চিকিৎসকরা
অনলাইন, বঙ্গ দর্পণ: লক্ষ্ণৌ: জন্মাষ্টমীর দিনে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হয় তিন বছরের কার্তিক। খেলার ছলে বাড়ির ছাদ থেকে প্রায় ২০ ফুট নিচে পড়ে গিয়ে একটি লোহার রড মাথা ও কাঁধ ভেদ করে ঢুকে যায় তার শরীরে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে পরিবারকে জানানো হয়, শিশুটির জীবন বাঁচাতে জরুরি অস্ত্রোপচার করতে হবে এবং খরচ প্রায় ১৫ লক্ষ টাকা লাগবে।
অসহায় পরিবার এত বড় অঙ্কের টাকা দিতে না পেরে পরে শিশুটিকে কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (কেজিএমইউ) ট্রমা সেন্টারে নিয়ে আসে। রাত তখন প্রায় ১১টা ৪৫ মিনিট। শনিবার হওয়ায় ছুটির দিন ছিল, ফলে অনেক চিকিৎসক উপস্থিত ছিলেন না। তবে নিউরোসার্জারি বিভাগের প্রধান ড. বি.কে. ওঝার নেতৃত্বে চিকিৎসক দলের তৎপরতায় শুরু হয় প্রায় ৩ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের জটিল অস্ত্রোপচার।
অভিযোগিত বিপুল খরচের পরিবর্তে কেজিএমইউ কর্তৃপক্ষ পরিবারের হাতে বিল ধরায় মাত্র ২৫ হাজার টাকার। বর্তমানে কার্তিক শিশু আইসিইউতে চিকিৎসাধীন, এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।
এই অভিযানের অন্যতম নায়ক ড. অঙ্কুর বাজাজ। উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, একই সময়ে তার নিজের মা হার্ট অ্যাটাকের পর ওই একই হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। ব্যক্তিগত দুঃসময় একপাশে রেখে তিনি ছোট্ট শিশুটির প্রাণ বাঁচাতে অগ্রাধিকার দেন।
মানবিকতার নজির গড়ে শিশু কার্তিককে নতুন জীবন উপহার দেওয়া চিকিৎসকদের প্রতি পরিবার ও সাধারণ মানুষ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। সমাজের কাছে এই বার্তা স্পষ্ট—ডাক্তার মানে শুধু পেশা নয়, এটি এক মহৎ দায়িত্ব।