আগরপাড়ায় আত্মহত্যা ঘিরে তোলপাড়, এনআরসি আতঙ্ক না রাজনৈতিক বিতর্ক?
উত্তর ২৪ পরগনার আগরপাড়ায় ৫৭ বছরের প্রদীপ করের আত্মহত্যাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে প্রবল রাজনৈতিক তরজা। তাঁর ঘর থেকে উদ্ধার হওয়া একটি ডায়েরিতে লেখা ছিল — “আমার মৃত্যুর জন্য এনআরসি দায়ী।” এই কথাই বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রদীপের মৃত্যুর পরে তৃণমূল ও বিজেপি পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছে। তৃণমূলের তরফে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেছেন, এনআরসি ও এসআইআরের আতঙ্কেই প্রদীপ কর নিজের জীবন শেষ করেছেন। তাঁর কথায়, “এটি কেবল আত্মহত্যা নয়, বরং কেন্দ্রের নীতির ফল।” তিনি এই ঘটনার ন্যায়বিচার দাবি করে রাজ্যজুড়ে প্রতিবাদের ঘোষণা দেন।
অন্যদিকে, বিজেপি নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন ওই তথাকথিত ‘সুইসাইড নোট’-এর সত্যতা নিয়ে। তাঁদের বক্তব্য, প্রদীপ মাত্র তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেছিলেন এবং তাঁর ডান হাতের চারটি আঙুল কাটা ছিল, ফলে তিনি লিখতে সক্ষম ছিলেন কি না তা তদন্তসাপেক্ষ। বিজেপির দাবি, সিবিআই তদন্ত হওয়া উচিত।
পুলিশ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে একটি নোট উদ্ধার করা হয়েছে এবং প্রদীপ কর এনআরসি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে জানা গেছে। যদিও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট এখনো প্রকাশিত হয়নি।
তৃণমূল-বিজেপির এই পাল্টা অভিযোগের মধ্যেই ঘটনাটি রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে উত্তাপ সৃষ্টি করেছে, বিশেষ করে ভোটার তালিকা সংশোধনের ঘোষণার পরপরই এই আত্মহত্যা ঘটা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠছে।
ছবি: সংগৃহীত