জাতিসংঘে কাঁপন ধরানো এক শব্দের উত্তর: লিবিয়ার প্রতিনিধি দলের ঐতিহাসিক জবাব
১৯৫১ সালের এক ঐতিহাসিক দিনে, জাতিসংঘের এক গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে লিবিয়ার স্বাধীনতা নিয়ে চলছিল উত্তপ্ত আলোচনা। সদ্য ঔপনিবেশিক শাসনের শৃঙ্খল ছিন্ন করা লিবিয়া তখন স্বাধীনতার স্বীকৃতি চাইছিল আন্তর্জাতিক মহলের কাছে। কিন্তু সভাকক্ষে উপস্থিত ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এক তুচ্ছতাপূর্ণ মন্তব্য করে বসেন —
“তোমরা তো কেবলই যাযাবর আর ভেড়া চরানো মানুষ... তোমরা স্বাধীনতার যোগ্য নও!”
এই মন্তব্যে উপস্থিত সবাই মুহূর্তের জন্য স্তব্ধ হয়ে যায়। অনেকে ভেবেছিলেন, লিবিয়ার প্রতিনিধি দল হয়তো কূটনৈতিক ভদ্রতার গণ্ডির মধ্যেই থেকে নরম কোনো প্রতিক্রিয়া জানাবে। কিন্তু যা ঘটল, তা ইতিহাসের পাতায় এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত হয়ে রইল।
লিবিয়ান প্রতিনিধি দলের প্রধান আব্দুল হামীদ আল্ 'আববার শান্ত কিন্তু দৃঢ় কণ্ঠে উঠে দাঁড়িয়ে জবাব দেন —
“আমরা ইতালীয় উপনিবেশের বিরুদ্ধে বিশ বছর ধরে লড়াই করেছি... আর আপনাদের দেশকে হিটলার দখল করেছিল মাত্র তিন দিনে! তাহলে বলুন, আমাদের মধ্যে কে স্বাধীনতার যোগ্য নয়?”
মুহূর্তেই জাতিসংঘের সভাকক্ষে নেমে আসে নিস্তব্ধতা। কোনো উত্তর ছিল না ইউরোপীয় অহংকারের কাছে।
এই একটি বাক্য শুধু প্রতিউত্তর নয়, ছিল এক রাজনৈতিক বজ্রপাত — ইউরোপীয় ঔদ্ধত্যে এক তীব্র আঘাত।
সেই দিনের ঘটনা ইতিহাসে এক নতুন শিক্ষা দিয়ে যায় — মর্যাদা কথার সাজে নয়, তৈরি হয় ত্যাগ ও সংগ্রামের আগুনে।
একটি জাতি তখনই মহান, যখন তারা দাসত্ব মেনে নেয় না এবং স্বাধীনতার মূল্য দিতে প্রস্তুত থাকে।
লিবিয়ার সেই উত্তরে সেদিন আরব বিশ্বের মাথা গর্বে উঁচু হয়ে উঠেছিল।
আর ইতিহাসে অমর হয়ে রইল সেই ঘোষণা —
“আমরা এমন এক জাতি, যাদের পরিমাপ তাঁবু দিয়ে নয়, বরং তাদের অবস্থান ও দৃঢ়তা দিয়ে হয়।”