সিরিয়ায় আসাদ পতনের এক বছর: উমাইয়া চত্বরে উল্লাস, নাগরিকদের ফিরে আসায় উৎসবের আবহ
সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতনের প্রথম বর্ষপূর্তিতে রাজধানী দামেস্কে উৎসবমুখর পরিবেশ লক্ষ্য করা গেছে। শনিবার থেকেই উমাইয়া চত্বর ঘিরে শুরু হওয়া উদ্যাপনে নানা বয়সের মানুষ অংশ নেন। আতশবাজির আলোয় শিশুরা বাড়ির জানালা থেকে সবুজ–সাদা–কালো জাতীয় পতাকা নাড়িয়ে আনন্দ প্রকাশ করে।
দীর্ঘ গৃহযুদ্ধ ও স্বৈরশাসনের অবসানের পর প্রথমবারের মতো সিরীয় নাগরিকরা এভাবে বর্ষপূর্তি পালন করছেন। আলেপ্পো থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে বহু বছর সৌদি আরব ও মিসরে কাটানোর পর সম্প্রতি দেশে ফেরা ২৪ বছর বয়সি আবু তাজ বলেন, “দেশের সংস্কৃতি এখন জনগণই ঠিক করছে। বহু বছর পর নিজের শহরে ফিরে আবার জুমার নামাজ পড়তে পারছি—এটাই সবচেয়ে বড় স্বস্তি।”
এক বছর আগে বাশার আল-আসাদের পতনের মধ্য দিয়ে ১৯৭০ সাল থেকে চলা পরিবারের স্বৈরশাসনের সমাপ্তি ঘটে। নাগরিকদের অনেকেই বলছেন, এটি তাদের জন্য নতুন শুরুর পথ তৈরি করেছে। যদিও ইরাক ও লিবিয়ার অভিজ্ঞতা মাথায় রেখে কেউ কেউ শঙ্কাও প্রকাশ করেছিলেন।
তবে নতুন প্রশাসনের সময়ও কিছু সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। লাতাকিয়া, সুওয়াইদা ও হিমসে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা দেখা দেয়, যার জন্য নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যকে দায়ী করা হয়। তবুও সরকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়।
উমাইয়া চত্বরে বর্ষপূর্তির উদ্যাপনে অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষই জানিয়েছেন, তাদের প্রত্যাশা এখন স্থিতিশীলতা ও পুনর্গঠন। বিদেশ থেকে ফেরা ২২ বছর বয়সি ওমরান বলেন, “দীর্ঘ নয় বছর পর পরিবারের সঙ্গে এই উৎসবে অংশ নিচ্ছি। আলহামদুলিল্লাহ, আমরা শান্তি চাই।”
ইয়ারমুক শরণার্থী শিবিরের তরুণ আবদুল আজিজ জানান, “স্বাধীনতার বর্ষপূর্তি আমাদের জন্য এক নতুন আশার দিন। আমরা অত্যাচার থেকে মুক্ত হয়েছি।”
দামেস্কজুড়ে এখন পতাকা, স্লোগান আর উৎসবের ঢেউ। যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে বলেই মনে করছেন স্থানীয়রা। তাদের বিশ্বাস, পুনর্গঠনের এই পথেই সিরিয়ার ভবিষ্যৎ আরও উজ্জ্বল হয়ে উঠবে।