গাজায় জাতিসংঘের আট ত্রাণ বহরের মধ্যে ঢুকতে পেরেছে মাত্র একটি
গাজা উপত্যকার ভয়াবহ মানবিক সংকটের মধ্যেও জাতিসংঘের ত্রাণ কার্যক্রম আবারও বাধাগ্রস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার জাতিসংঘের পরিকল্পিত আটটি ত্রাণ বহরের মধ্যে মাত্র একটি বহর গাজায় প্রবেশ করতে পেরেছে বলে বুধবার সাংবাদিকদের জানিয়েছেন জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক।
সাতটি বহর বাধাগ্রস্ত বা বাতিল
ডুজারিক জানান, গাজার অভ্যন্তরে আটটি মানবিক সহায়তা পরিবহন পাঠানোর জন্য ইসরাইলের সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছিল। তবে সাতটি পরিবহনই বাধা বা বাতিলের মুখে পড়ে। এর পরও জাতিসংঘ দল কেরেম শালোম ক্রসিং থেকে ২০০-র বেশি ওষুধের প্যালেট, পাঁচটি জ্বালানি ট্যাংকার এবং অতিরিক্ত তাঁবু সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়েছে।
ভারী বৃষ্টিপাতে আশ্রয়কেন্দ্র ডুবে যাওয়া এবং ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পরিস্থিতি ত্রাণ সরবরাহকে আরও দুরূহ করেছে বলে উল্লেখ করছে স্থানীয় সূত্র।
গাজায় হাসপাতালের অচলাবস্থা
ডুজারিক বলেন, “গাজায় একটি হাসপাতালও সম্পূর্ণ কার্যকর অবস্থায় নেই। মাত্র অর্ধেক হাসপাতাল সীমিত পরিসরে সেবা দিতে পারছে।”
তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) সোমবার ৩৩ জন ফিলিস্তিনি এবং একশর বেশি স্বাস্থ্যকর্মীকে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছে। তবে এখনো সাড়ে ১৬ হাজারের বেশি রোগীকে গাজার বাইরে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।
নিরবচ্ছিন্ন মানবিক করিডোরের আহ্বান
জাতিসংঘ মুখপাত্র ত্রাণ কার্যক্রমে বাধা দূর করার জোর আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সহায়তা দলগুলোকে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজের সুযোগ দিতে হবে। গাজায় মানুষের প্রয়োজনীয় সাহায্য পৌঁছাতে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া এখন জরুরি।”
দুই বছরে মৃত্যুর সংখ্যা বাড়ছে
ফিলিস্তিনি পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরাইলের হামলায় প্রায় ৭০ হাজার ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন—যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন এক লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি মানুষ।
চলতি বছরের ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এরপরও ইসরাইলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকে। যুদ্ধবিরতির পর অন্তত ৩৪২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন বলে দাবি স্থানীয় কর্তৃপক্ষের।
পশ্চিম তীরেও সহিংসতা অব্যাহত
গাজার পাশাপাশি পশ্চিম তীরেও ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলায় গত দুই বছরে কমপক্ষে এক হাজার ৮২ জন ফিলিস্তিনি নিহত এবং প্রায় ১১ হাজার আহত হয়েছেন। আটক করা হয়েছে ২০ হাজার ৫০০–র বেশি ফিলিস্তিনিকে।
আন্তর্জাতিক আদালতের নজরদারি
গাজায় যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে গত নভেম্বরে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়োভ গ্যালান্টের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে।
এছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) গণহত্যার অভিযোগে ইসরাইল বিচারের মুখোমুখি রয়েছে।