পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্তে উত্তেজনা, সেনা মোতায়েন সর্বোচ্চ সতর্কে বাণিজ্য বন্ধ, সীমান্তে আটকে শতাধিক ট্রাক; ট্রাম্প ও চীনের হস্তক্ষেপের প্রস্তাব
পেশোয়ার/কাবুল, ১৪ অক্টোবর ২০২৫:
আফগানিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষের পর পাকিস্তানের সেনারা সোমবার সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় মোতায়েন করা হয়েছে। সপ্তাহান্তে হওয়া ভয়াবহ লড়াইয়ে অন্তত কয়েক ডজন প্রাণহানি ঘটেছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, যিনি জানিয়েছেন তিনি শান্তি প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করতে পারেন।
শনিবার রাতে তোরখাম ও চামান সীমান্তে পাকিস্তানি ও আফগান বাহিনীর মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়। এর পর থেকেই পাকিস্তান সব সীমান্তপথ বন্ধ করে দেয়। ফলে শতাধিক ট্রাক ও কনটেইনার দুই দেশের সীমান্তে আটকে রয়েছে। সীমান্ত বন্ধ থাকায় দুই দেশের ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি রুপি ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সংঘর্ষে তাদের ২৩ জন সেনা নিহত হয়েছেন, অন্যদিকে তালেবান জানায় তাদের ৯ যোদ্ধা প্রাণ হারিয়েছে। উভয় পক্ষই দাবি করেছে প্রতিপক্ষের আরও হতাহতের কথা, তবে তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
পাকিস্তান অভিযোগ করেছে, আফগানিস্তান তাদের সীমান্তে সক্রিয় জঙ্গিদের আশ্রয় দিচ্ছে, যারা পাকিস্তানের ভেতরে হামলা চালাচ্ছে। তালেবান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুতাকি ভারতের দিল্লি সফরে সাংবাদিকদের বলেন, “যুদ্ধ কোনো সমাধান নয়, সংলাপই একমাত্র পথ।” তিনি জানান, আফগানিস্তান কারও সঙ্গে লড়াই চায় না।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মন্তব্য করেন, “আমি যুদ্ধ সমাধানে দক্ষ, এবং শান্তি স্থাপনেও পারদর্শী।” চীনও দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে মধ্যস্থতার আগ্রহ দেখিয়েছে।
অন্যদিকে তালেবান মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ দাবি করেছেন, তাদের বাহিনী ৫৮ জন পাকিস্তানি সেনাকে হত্যা করেছে এবং ২০টিরও বেশি সামরিক ঘাঁটি দখল করেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, আইএস-খোরাসানের কিছু সেল পাকিস্তানের ভেতর থেকেই পরিচালিত হচ্ছে, যা আফগানিস্তানসহ বিদেশি দূতাবাসে হামলার পরিকল্পনা করছে।