পাকিস্তানের অভিযোগ—‘আফগান শাসনব্যবস্থা পুরো অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য হুমকি’
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর গণসংযোগ বিভাগের মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরিফ চৌধুরী সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান আফগান শাসনব্যবস্থা শুধু পাকিস্তানের জন্য নয়, সমগ্র অঞ্চল এবং বিশ্বের জন্যই বড় ধরনের নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করছে। তিনি অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান থেকে সেনা প্রত্যাহারের সময় ২.৭ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সামগ্রী ফেলে যাওয়ায় সেগুলো এখন উগ্রপন্থীদের হাতে ব্যবহৃত হচ্ছে।
শনিবার পাকিস্তানি দৈনিক দ্য নিউজ–কে দেওয়া বক্তব্যে তিনি জাতীয় নিরাপত্তা বিষয়ক ব্রিফিংয়ে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযানগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন এবং অভিযোগ করেন—আফগান তালেবান সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে এবং বিভিন্ন জঙ্গি গোষ্ঠীকে পরোক্ষভাবে সহায়তা করছে।
চৌধুরী জানান, ৪ নভেম্বর ২০২৫ থেকে এখন পর্যন্ত পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনী ৪,৯৯০টি গোয়েন্দা অভিযানে অংশ নিয়েছে, যেখানে ২০৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। বছরের শুরু থেকে সামগ্রিকভাবে ৬৭,০২৩টি অভিযানে ১,৮৭৩ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে—যাদের মধ্যে ১৩৬ জন আফগান নাগরিক।
তিনি বলেন, পাকিস্তান–আফগানিস্তান সীমান্ত পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল, বিশেষ করে খাইবার–পাখতুনখোয়া অঞ্চলের ১,২২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ দুর্গম সীমান্ত এবং ২০টি ক্রসিং পয়েন্ট নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত কঠিন চ্যালেঞ্জ।
এদিকে, উত্তর-পশ্চিম পাকিস্তানের হাঙ্গু এলাকায় বৃহস্পতিবার একটি পুলিশ চৌকিতে সন্ত্রাসী হামলায় তিন পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা খান জেব জানান, পাহাড়ি এলাকার ওই চৌকিতে হামলার পর সেখানে বিপুল সংখ্যক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, আফগান সরকার জানিয়েছে, তাদের বাহিনী দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত এবং সীমান্তে কোনো ধরনের উসকানি বরদাস্ত করা হবে না। সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে তালেবান সরকার নতুন বিশেষ কমান্ডো ইউনিট প্রদর্শন করেছে, যারা মতাদর্শিক ও সামরিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছে।
এক অনুষ্ঠানে তালেবান উপপ্রধানমন্ত্রী মোল্লা আবদুল গনি বারাদর বলেন, কোনো প্রতিবেশী দেশ যদি আফগানিস্তানের ভূখণ্ডে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে কঠোর জবাব দেওয়া হবে। তালেবান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ও জানায়, নতুন কমান্ডো ইউনিট সীমান্ত রক্ষায় সম্পূর্ণ প্রস্তুত। বারাদর সতর্ক করেন—কেউ যেন “আফগানের ধৈর্য পরীক্ষা না করে” বা আফগান ভূখণ্ডের প্রতি খারাপ উদ্দেশ্য পোষণ না করে।
সীমান্তে বাড়তি উত্তেজনার ফলে দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে বলে পর্যবেক্ষকদের মত।