গাজা পুনর্গঠনে মার্কিন পরিকল্পনার বিরোধিতা করল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও হামাস
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনার বিরুদ্ধে একই সুরে আপত্তি জানিয়েছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও হামাস। নিউইয়র্ক টাইমস–এর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উঠে আসে—ওয়াশিংটন গাজার ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রিত পূর্বাঞ্চলে ফিলিস্তিনিদের জন্য বিশেষ আবাসন কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা করছে।
বর্তমানে ইসরায়েল গাজার মোট এলাকার অর্ধেকের বেশি অংশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, যা তথাকথিত ‘হলুদ রেখা’র পূর্ব দিকে অবস্থিত। যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় এলাকা থেকে প্রত্যাহার করতে তেলআবিব এখনও অনীহা দেখাচ্ছে।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের এক কর্মকর্তা জানান, গাজার রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের হওয়াই স্বাভাবিক। তাঁর মতে, গাজা পুনর্গঠনের যে কোনও উদ্যোগ পুরো অঞ্চলের জন্যই হওয়া উচিত এবং ইসরায়েলের সম্পূর্ণ প্রত্যাহারের পর তা বাস্তবায়িত হওয়া প্রয়োজন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, আলাদা আবাসন প্রকল্প গাজাকে স্থায়ীভাবে বিভক্ত করে দেওয়ার পথ তৈরি করতে পারে।
হামাসের এক শীর্ষ নেতা একই মত পোষণ করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের এমন পরিকল্পনা আন্তর্জাতিক বা আরব जगতের সমর্থন পাচ্ছে না—ফলে তা বাস্তবে সফল হবে না। তাঁর অভিযোগ, এই উদ্যোগ ফিলিস্তিনিদের বিভক্ত করতে এবং ইসরায়েলি প্রভাবাধীন এলাকায় তাদের সরিয়ে এনে নিরাপত্তা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে।
মার্কিন পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ
নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র গাজার পূর্ব অংশে ‘বিকল্প নিরাপদ সম্প্রদায়’ নামে অস্থায়ী আবাসন কেন্দ্র গড়ে তুলতে চায়। প্রতিটি আবাসনে প্রায় ২০–২৫ হাজার মানুষ থাকার মতো সুবিধা, সঙ্গে স্কুল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, মার্কিন ও ইউরোপীয় কূটনীতিকসহ প্রায় ২০ জন কর্মকর্তার সাক্ষাৎকারের ভিত্তিতে এই পরিকল্পনার খসড়া তৈরি হয়েছে। তবে বৃহৎ এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সময় লাগবে—প্রথম আবাসন কেন্দ্র তৈরি শুরু হতে কয়েক মাস অপেক্ষা করতে হতে পারে।
ইসরায়েলের কিছু কর্মকর্তা মত দিয়েছেন যে, নিরাপত্তার স্বার্থে এই নতুন কমপ্লেক্সগুলোতে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশাধিকার থাকবে, কিন্তু তারা সহজে সেখান থেকে বের হতে পারবেন না। ইউরোপীয় কূটনীতিকরা সম্ভাব্য চলাচল সীমাবদ্ধতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
প্যালেস্টাইনি জনগণের গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন
এই আবাসন কেন্দ্রগুলো শরণার্থী শিবিরের মতো দেখতে হবে বলে আশঙ্কা করছেন কিছু মার্কিন ও ইউরোপীয় কর্মকর্তা। এতে গাজা বাস্তবে ইসরায়েল–নিয়ন্ত্রিত অংশ ও হামাস–প্রভাবিত অংশে বিভক্ত হয়ে যেতে পারে বলেও তাদের অনেকে মনে করছেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, মার্কিন কর্মকর্তারা এ কমপ্লেক্সগুলোর জন্য ব্যবহৃত জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ কীভাবে দেওয়া হবে তা নিয়েও আলোচনা করছেন।
এদিকে, হামাসের আশঙ্কা—মার্কিন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা হলে সংগঠনটি তা বাধাগ্রস্ত করতে পারে। সামগ্রিকভাবে, এই প্রস্তাব গাজা পুনর্গঠনে নতুন বিতর্ক সৃষ্টি করেছে এবং ফিলিস্তিনি নেতৃত্বের চোখে এটি ‘অগ্রহণযোগ্য ও অকার্যকর’।