নতুন প্রতিরক্ষা কৌশল প্রকাশ পেন্টাগনের, চীনকে রুখতে অগ্রাধিকার, মিত্রদের জন্য সীমিত সহায়তা
ওয়াশিংটন: মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন তাদের নতুন জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল প্রকাশ করেছে। এতে জানানো হয়েছে, আগামী দিনে যুক্তরাষ্ট্র মূলত নিজস্ব নিরাপত্তা এবং চীনকে প্রতিরোধ করার দিকেই বেশি মনোযোগ দেবে। ইউরোপসহ অন্যান্য অঞ্চলের মিত্র দেশগুলিকে দেওয়া হবে তুলনামূলকভাবে সীমিত সামরিক সহায়তা।
২০২৬ সালের জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশলে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তার ভূখণ্ড এবং ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের সুরক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেবে। একই সঙ্গে মিত্র ও অংশীদার দেশগুলিকে নিজেদের নিরাপত্তার দায় আরও বেশি করে নিতে হবে। মার্কিন সেনাবাহিনী কেবল প্রয়োজনীয় মৌলিক সহায়তা দেবে।
এই কৌশলপত্রে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের মিত্রদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, রাশিয়া বা উত্তর কোরিয়ার মতো হুমকির মোকাবিলায় তাদের নিজেদের ভূমিকা আরও জোরদার করতে হবে। পেন্টাগনের মতে, অতীতে অনেক দেশ যুক্তরাষ্ট্রের ওপর অতিরিক্তভাবে নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল, যা বদলানো প্রয়োজন।
৩৪ পাতার এই নথি ২০২২ সালের পর প্রথম প্রকাশিত জাতীয় প্রতিরক্ষা কৌশল। এতে আগের প্রশাসনগুলোর নীতির সমালোচনাও করা হয়েছে। নথিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে মার্কিন সরকার নিজেদের নাগরিক ও বাস্তব জাতীয় স্বার্থকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়নি। নতুন কৌশল সেই দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই কৌশল প্রকাশ এমন এক সময় হলো, যখন ইউরোপসহ একাধিক মিত্র দেশের সঙ্গে মার্কিন প্রশাসনের টানাপড়েন বেড়েছে। সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউরোপীয় কয়েকটি দেশের ওপর শুল্ক আরোপের হুমকিও দেন। একই সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড ও পানামা খালের মতো কৌশলগত অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বাণিজ্যিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
কৌশলপত্রে কানাডা ও মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার প্রতিবেশী দেশগুলির সঙ্গে সহযোগিতার আহ্বান জানানো হলেও স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় প্রয়োজন হলে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর ও লক্ষ্যভিত্তিক পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত থাকবে।
নতুন এই প্রতিরক্ষা কৌশল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ সামরিক নীতির ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।