পোপ হিসেবে প্রথম বড়দিনের প্রার্থনায় লিও চতুর্দশের শান্তির আহ্বান
ভ্যাটিকানের সেন্ট পিটার্স স্কয়ারে পোপ হিসেবে প্রথমবারের মতো বড়দিনের প্রার্থনায় অংশ নিলেন পোপ লিও চতুর্দশ। বুধবার বৃষ্টির মধ্যেও হাজারো খ্রিস্টান ভক্ত সেন্ট পিটার্স বাসিলিকার সামনে জড়ো হয়ে প্রার্থনায় অংশ নেন বা বড় পর্দায় অনুষ্ঠানটি অনুসরণ করেন।
ভ্যাটিকান সূত্র জানায়, বাইরে প্রায় পাঁচ হাজার মানুষ উপস্থিত ছিলেন এবং বাসিলিকার ভেতরে উচ্চপদস্থ চার্চ নেতা, কূটনীতিক ও ধর্মপ্রাণ মিলিয়ে প্রায় ছয় হাজার বিশ্বাসী অংশ নেন।
প্রার্থনার শুরুতে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে শুভেচ্ছা জানিয়ে পোপ বলেন, সেন্ট পিটার্স বাসিলিকা অনেক বড় হলেও সবার জন্য জায়গা যথেষ্ট নয়—এ জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন।
নিজের বড়দিনের বাণীতে পোপ লিও বড়দিনকে বিশ্বাস, মানবিকতা ও আশার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। তিনি এমন এক বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার সমালোচনা করেন, যা মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে। তবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক ইস্যুতে বক্তব্য রাখেননি এবং পুরো ভাষণটি ছিল ধর্মীয় মূল্যবোধকেন্দ্রিক।
মার্কিন বংশোদ্ভূত পোপ লিও তাঁর পূর্বসূরি পোপ ফ্রান্সিসের তুলনায় বেশি সংযত ও ভারসাম্যপূর্ণ ভঙ্গিতে দায়িত্ব পালন করছেন বলে পর্যবেক্ষকেরা মনে করছেন। উল্লেখ্য, পোপ ফ্রান্সিস চলতি বছরের এপ্রিল মাসে মৃত্যুবরণ করেন।
প্রার্থনায় ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় সঙ্গীত পরিবেশিত হয় এবং যিশু শিশুর প্রতীকী মূর্তি দোলনায় স্থাপনের মতো আচার পালন করা হয়। পোপ লিও এবার তুলনামূলকভাবে দেরিতে প্রার্থনা পরিচালনা করেন।
ভ্যাটিকান জানিয়েছে, বড়দিনের দিন তিনি আরও একটি প্রার্থনায় অংশ নেবেন এবং পরে সেন্ট পিটার্স বাসিলিকার বারান্দা থেকে ঐতিহ্যবাহী ‘উরবি এট অরবি’ আশীর্বাদ প্রদান করবেন, যেখানে বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হবে।
এর আগে বড়দিনের প্রাক্কালে পোপ লিও বিশ্বব্যাপী যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানান। ইউক্রেন পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অন্তত বড়দিনের দিনে সংঘাত বন্ধ রেখে মানবিকতার প্রতি সম্মান জানানো উচিত।
এদিকে, ২০২৫ সালের বড়দিন ক্যাথলিক চার্চের বিশেষ জুবিলি পবিত্র বর্ষের সমাপ্তিও নির্দেশ করছে। এ উপলক্ষে রোমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে লাখো তীর্থযাত্রী সমবেত হয়েছেন।