Tranding

পোপ লিও চতুর্দশের বেইরুত সফর: শান্তি, মিলেমিশে থাকা ও দেশপ্রেমের আহ্বান

পোপ লিও চতুর্দশ বেইরুত পৌঁছে লেবাননের জনগণকে শান্তির পথে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তার ঐতিহাসিক সফর শুরু করেছেন "শান্তিকর্মীদের ভগবান আশীর্বাদ" শব্দগুলো দিয়ে। পোপ লেবাননিদের সাহসিকতার প্রশংসা করে বলেছেন, দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক সংকটের মধ্যে থেকেও যারা দেশেই থেকে চলেছেন, তাদের সৎ প্রচেষ্টা ও মিলেমিশে থাকা এক উন্নত ভবিষ্যতের জন্য অপরিহার্য।

রবিবার বেইরুত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পোপের সরকারি অভ্যর্থনা জানানো হয়। রাষ্ট্রপতি জوزেফ আউন, পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ ব্রি, প্রধানমন্ত্রী নওয়াফ সালাম এবং ধর্মীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন। সেনাবাহিনী গুলি ছুঁড়ে এবং বন্দর থেকে নৌকা বাজনা বাজিয়ে পোপের আগমন উদযাপন করে।

এই সফরে পোপ প্রথমবারের মতো ২০১২ সালের পর লেবাননে এসেছেন। বিমানবন্দর থেকে তিনি সরাসরি রাষ্ট্রপতি ভবনে যান এবং রাষ্ট্রপতি ও সরকারের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর তিনি সরকারের শীর্ষ কর্মকর্তারা, সমাজের প্রতিনিধিরা ও কূটনীতিকদের সামনে বক্তব্য দেন।

পোপ তার বক্তব্যে বলেন, “লেবাননের কোটি কোটি মানুষ শান্তির জন্য নিঃশব্দে কাজ করছেন। যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের জন্য শান্তির লক্ষ্য সবকিছুর উপরে রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

তিনি লেবাননিদের একটি গুণাবলী উল্লেখ করে বলেন, “আপনারা এমন একটি জাতি যারা কখনো হার মানেন না, কঠিন সময়েও নতুন করে আবার উঠতে পারেন। শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া যা ধৈর্য, সাহস এবং দৃঢ় সংকল্পের মাধ্যমে সম্ভব।”

পোপ আরও বলেন, “দেশে থাকা বা ফিরে আসার জন্য সাহস এবং দৃষ্টিভঙ্গি দরকার, বিশেষ করে যখন পরিস্থিতি কঠিন হয়। মিলেমিশে থাকা এবং পারস্পরিক ক্ষমার মাধ্যমে লেবানন একটি শক্তিশালী ভবিষ্যত গড়ে তুলতে পারে।”

তিনি দেশের অর্থনৈতিক মন্দা, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সাংস্কৃতিক সংঘাতের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আপনারা সবসময় নতুন করে শুরু করার চেষ্টা করেছেন।”

পোপের ভাষণে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য একসঙ্গে কাজ করার এবং পারস্পরিক বোঝাপড়ার গুরুত্ব বিশেষভাবে জোর দেওয়া হয়।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট জوزেফ আউনও পোপকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, “লেবানন মানুষের স্বাধীনতার দেশ, যেখানে সবাই ধর্ম নির্বিশেষে সমান অধিকার পায়। এটি একটি অনন্য দেশ যা বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের উদাহরণ।”

আউন আরও বলেন, “যদি এই মডেলটি ভেঙে পড়ে, তবে পৃথিবীর কোথাও এমন শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান সম্ভব হবে না।” তিনি সতর্ক করে বলেন, “যদি লেবাননের সাম্য ও ভারসাম্য নষ্ট হয়, তাহলে তার বিকল্প হবে বিভিন্ন ধরনের উগ্রতা ও সহিংসতা।”

তিনি পোপকে অনুরোধ করেন, “বিশ্বকে বলুন যে লেবানন হাল ছাড়বে না, লেবানন থাকবে, লেবানন বাঁচবে।”

পোপ লিও চতুর্দশ তার সফরে ফিলিস্তিন-ইসরায়েল বিরোধের সমাধান হিসেবে “দুটি রাষ্ট্র সমাধান” মডেলকে গুরুত্ব দিয়ে বলেছেন, “এটাই একমাত্র উপায় যা উভয় পক্ষের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে পারে।”

এই সফরটি এমন সময়ে হচ্ছে যখন লেবাননে ইসরায়েলি উত্তেজনা বাড়ছে, এবং “হিজবুল্লাহ”-র অস্ত্র নিষ্ক্রিয় করার প্রচেষ্টা চলছে। গত বছরের গুলিবিনিময় যুদ্ধের পর এক বছরের অস্ত্রবিরতি কার্যকর রয়েছে।

সংক্ষেপে: পোপ লিও চতুর্দশ লেবাননে এসে দেশবাসীর প্রতি শান্তি, ধৈর্য্য, মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দেশের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে দুই-রাষ্ট্র সমাধানের পক্ষে মত প্রকাশ করেছেন এবং লেবাননের বহুধর্মীয় সমাজের স্থিতিশীলতার গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।

Trusted source for latest breaking news, headlines, and updates from around the world.

© Your Bango Darpan News. All Rights Reserved.