গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনায় ইতিবাচক সুর, নতুন শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে তৎপর আমেরিকা–ইউরোপ
গাজা,— গাজার চলমান যুদ্ধ বন্ধে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন উদ্যোগ জোরদার হয়েছে। ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসের শীর্ষ সূত্র জানিয়েছে, তারা যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবগুলিকে ‘‘অত্যন্ত ইতিবাচক’’ মনোভাবে বিবেচনা করছে এবং ‘‘গাজার ভবিষ্যৎ ও যুদ্ধ-পরবর্তী প্রশাসন’’ নিয়ে আলোচনায়ও নমনীয় অবস্থান নিচ্ছে।
হামাসের অবস্থান
সূত্রের দাবি, আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই গাজায় অস্থায়ী যুদ্ধবিরতি হতে পারে, যা পরবর্তীতে স্থায়ী শান্তিচুক্তির দিকে অগ্রসর হতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র, আরব ও ইসলামি দেশসহ আন্তর্জাতিক পক্ষগুলির গ্যারান্টিতে এই প্রক্রিয়া এগোতে পারে।
হামাস আরও জানিয়েছে, ‘‘গাজায় রক্তপাত বন্ধের জন্য আমরা সব বিকল্পের প্রতি উন্মুক্ত। এমনকি প্রয়োজনে শাসনক্ষমতা থেকেও সরে দাঁড়াতে আমাদের আপত্তি নেই।’’
মার্কিন শান্তি পরিকল্পনা
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন চলাকালে নিউইয়র্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আরব ও ইসলামি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করে গাজা যুদ্ধ সমাপ্তির জন্য ২১ দফার ‘‘ট্রাম্প শান্তি পরিকল্পনা’’ উপস্থাপন করেছেন।
মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকভ জানিয়েছেন, পরিকল্পনায় যুদ্ধবিরতি, বন্দি বিনিময়, ইসরায়েলি সেনার ধাপে ধাপে প্রত্যাহার, যুদ্ধ-পরবর্তী গাজা প্রশাসনের জন্য নতুন কাঠামো এবং আরব–ইসলামি দেশগুলির যৌথ নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েনের প্রস্তাব রয়েছে।
আরব নেতাদের শর্ত
আরব দেশগুলির নেতারা স্পষ্ট করে দিয়েছেন—
পশ্চিম তীর দখল বা সংযুক্তি মেনে নেওয়া হবে না।
গাজার ভেতরে নতুন ইসরায়েলি বসতি স্থাপন চলবে না।
আল–আকসা মসজিদের বর্তমান অবস্থায় কোনও পরিবর্তন আনা যাবে না।
মানবিক সহায়তা দ্রুত ও অব্যাহতভাবে পৌঁছাতে হবে।
বৈঠক শেষে এক আরব কূটনীতিক বলেন, ‘‘প্রথমবার মনে হচ্ছে টেবিলে একটি গুরুতর পরিকল্পনা এসেছে। ট্রাম্প সত্যিই যুদ্ধ শেষ করতে চান এবং আঞ্চলিক স্বার্থে এগোতে আগ্রহী।’’
ফরাসি উদ্যোগ
অন্যদিকে, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ ‘‘সবার জন্য নিরাপত্তা ও শান্তি’’ নামে একটি পৃথক পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিরতি, বন্দি মুক্তি, গাজায় অন্তর্বর্তীকালীন প্রশাসন ও পুনর্গঠিত পুলিশ বাহিনী গঠন, এবং জাতিসংঘের অনুমোদিত আন্তর্জাতিক শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েন।
ম্যাক্রোঁ বলেছেন, ‘‘আমরা একটি নিরস্ত্র ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের পক্ষে, যা ইসরায়েলকে স্বীকৃতি দেবে। শান্তিই ইসরায়েলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং বিশ্বাসযোগ্যতা ফিরিয়ে দেবে।’’
সামনের পথ
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্সের পরিকল্পনার মধ্যে বহু মিল রয়েছে। গাজায় যুদ্ধ-পরবর্তী শাসনব্যবস্থা নিয়ে ‘‘আরব দেশগুলির অংশগ্রহণ ও আন্তর্জাতিক তত্ত্বাবধান’’ মডেলটি সামনে আসছে। তবে এটি কত দ্রুত বাস্তবায়ন হবে এবং ইসরায়েল কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে, তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।