সম্পাদকীয়:প্রকাশ রাজের সত্য প্রকাশ
প্রকাশ রাজ আবারও সরাসরি আঙুল তুললেন। অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রোটেকশন অফ ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিসিআর)-এর আলোচনায় তাঁর বক্তব্য স্পষ্ট করে দিল—এই দেশ আজ ভয়ের শাসনে চলছে। ওমর খালিদদের মুক্তি হচ্ছে না শুধুমাত্র তাঁদের মুসলিম পরিচয়ের কারণে। কারণ তাঁরা শিক্ষিত, সচেতন, প্রশ্ন করতে জানেন—এই যোগ্যতাই তাঁদের শত্রুতে পরিণত করেছে। প্রকাশ রাজের সতর্কবাণী উপেক্ষা করা যায় না। তিনি বললেন, ভারতের দক্ষিণপন্থীরা তাকিয়ে আছে ইসরাইলের দিকে। যদি ইসরাইল গাজাকে মরুভূমিতে পরিণত করতে সফল হয়, তবে এখানেও একই ছক কষা হবে। এটিকেই তারা নতুন স্বাভাবিকতা—“নিউ নরম্যাল”—হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে। আমরা দেখছি, কীভাবে তদন্ত সংস্থাগুলিকে ব্যবহার করে তরুণদের বছরের পর বছর কারাগারে পুরে রাখা হচ্ছে। জামিনের আর্জি একের পর এক খারিজ। এই প্রক্রিয়া আসলে ভিন্নমত দমনের হাতিয়ার। রাষ্ট্রের হাতে যখন ক্ষমতার সমস্ত যন্ত্র, তখন মানুষকে ভয় দেখানোই হয়ে উঠছে শাসনের প্রধান কৌশল। প্রকাশ রাজ যে উদাহরণগুলি টেনেছেন, সেগুলো আমাদের চেতনাকে নাড়া দেয়। অর্ধকিলো খাসির মাংস হাতে বাড়ি ফেরা এক সাধারণ মানুষ গুজবের শিকার হয়ে উন্মত্ত জনতার হাতে খুন হন। সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশের হত্যাকারীরা সহজেই জামিনে ছাড়া পেয়ে রাস্তায় বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়ান। এ কি বিচারব্যবস্থা? নাকি তৈরি করা এক রাজনৈতিক ন্যারেটিভ, যেখানে ঘৃণা ও সন্দেহই চালিকাশক্তি? আরও ভয়ঙ্কর হল সমাজের মানসিকতা। এক বন্ধু মুসলিমদের ভয় পান, অথচ শাহরুখ খান, সলমান খান, আমির খানের ভক্ত। মন খারাপ হলে রফির গান শোনেন, প্রেমে পড়লে ফয়েজের কবিতা পড়েন—তবু মুসলিমদের নিয়ে ভয় কাটে না। এটাই তথাকথিত ‘হোয়াটসঅ্যাপ ইউনিভার্সিটি’র শিক্ষার ফল। প্রকাশ রাজের বক্তব্যে বারবার ফিরে এসেছে এক কথাই: প্রশ্ন করাটাই আজকের সরকারের সবচেয়ে বড় শত্রু। ওমর খালিদের পরিবার প্রশ্ন করতে ভয় পায়নি, তাই তাঁদের দমন করা হচ্ছে। প্রশ্ন তুললেই রাষ্ট্র কেঁপে ওঠে। আর তাই শিল্পী হিসেবে, নাগরিক হিসেবে তিনি আওয়াজ তুলছেন। এই সময়ে তাঁর আহ্বান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—“আমরা যদি সাহস করে মুখ না খুলি, যদি না বলি যে পৃথিবীতে কোনও মানুষ বেআইনি নয়, তবে এই গণহত্যা চলতেই থাকবে।” এটাই আজকের ভারতের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভয় ও নীরবতা যদি স্বাভাবিক হয়ে ওঠে, তবে গণতন্ত্র অর্থহীন হয়ে পড়বে। তাই আমাদের বেছে নিতে হবে—আমরা কি ভয়ের ‘নিউ নরম্যাল’ মেনে নেব, নাকি প্রশ্ন ও প্রতিবাদের শক্তিকে পুনরুজ্জীবিত করব