অনুদানহীন মাদ্রাসার শিক্ষক-কর্মীদের সাম্মানিক প্রদানে প্রস্তুতি, নবান্নে তৎপরতা
কলকাতা, ১৯ জানুয়ারি ২০২৬:
পশ্চিমবঙ্গের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক করে তুলতে আরও একধাপ এগোল রাজ্য সরকার। অনুদানহীন মাদ্রাসাগুলির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের নিয়মিত সাম্মানিক প্রদানের লক্ষ্যে নবান্নে প্রস্তুতি শুরু হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
রাজ্য সরকার সূত্রে খবর, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে ২০১৩-১৪ শিক্ষাবর্ষে প্রথম পর্যায়ে ২৩৫টি অনুদানহীন মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। পরবর্তীকালে ২০২১ সাল থেকে ওই মাদ্রাসাগুলিতে কর্মরত ১০ জন করে শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীকে নিয়মিত মাসিক সাম্মানিক দেওয়া হচ্ছে। তাঁরা ৬০ বছর বয়স পর্যন্ত পরিষেবা দিয়ে এই সাম্মানিকের সুবিধা পাচ্ছেন।
এদিকে দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও অনুদানহীন মাদ্রাসাকে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়েছে। প্রাথমিকভাবে ৬৮০টি মাদ্রাসাকে তালিকাভুক্ত করা হলেও জেলা স্তরের সমীক্ষা ও শুনানির পর ৩৬৬টি মাদ্রাসাকে চূড়ান্ত স্বীকৃতি দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ মাদ্রাসা শিক্ষা পর্ষদ। বর্তমানে ওই সব মাদ্রাসার শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের যোগ্যতা যাচাইয়ের কাজ দ্রুতগতিতে চলছে। প্রশাসনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জানুয়ারি মাস থেকেই তাঁদের নিয়মিত সাম্মানিক প্রদান শুরু হবে।
জানা গিয়েছে, নতুনভাবে স্বীকৃত এই মাদ্রাসাগুলির শিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীরা ২০২৫ সালের অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন মাসের বকেয়া সাম্মানিকও এরিয়ার হিসেবে পাবেন। এই খাতে আগামী এক বছরের জন্য রাজ্য অর্থ দপ্তর ইতিমধ্যেই ৩৪ কোটি ৪৭ লক্ষ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ করেছে।
অন্যদিকে, অবশিষ্ট ৩১৪টি মাদ্রাসার মধ্যে ১০১টি আপাতত অযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও বাকি ২১৩টির ক্ষেত্রে পুনর্বিবেচনার প্রক্রিয়া চালু রয়েছে।
পরিকাঠামো উন্নয়নের দিকেও জোর দিচ্ছে রাজ্য। ইতিমধ্যেই ৬০০টি মাদ্রাসায় ১২০০টি স্মার্ট ক্লাস চালু হয়েছে। পাশাপাশি ১১৫টি মাদ্রাসায় কম্পিউটার ল্যাব স্থাপন করা হয়েছে। গ্রন্থাগার সমৃদ্ধ করতে ২০২৫ সালে প্রায় ৪ কোটি ৭১ লক্ষ টাকার বই বিতরণ করা হয়েছে এবং ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের জন্য আরও ৫ কোটি ২০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। বিজ্ঞান শিক্ষার প্রসারে ৭৬টি মাদ্রাসার সায়েন্স ল্যাব আধুনিকীকরণে ৪ কোটি ১০ লক্ষ টাকা মঞ্জুর হয়েছে।
শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে এখনও পর্যন্ত প্রায় ৯,৮৯০ জন শিক্ষক ও ৭৭৪ জন অশিক্ষক কর্মচারী নিয়োগ পেয়েছেন। সম্প্রতি সপ্তম এসএলএসটির মাধ্যমে ১,০৩৫ জন সহকারী শিক্ষক এবং গ্রুপ-ডি পদে ২৯৫ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে।
সরকারি ও অনুদানহীন মাদ্রাসার শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য নিয়মিত কর্মশালার আয়োজনও করা হচ্ছে। প্রশাসনের দাবি, এই সব উদ্যোগের মাধ্যমে রাজ্যের মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যবস্থার সার্বিক মানোন্নয়নই মূল লক্ষ্য।