ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট এর চেয়ারম্যান বিধায়ক নৌওশাদ সিদ্দিকীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত প্রেস বার্তা
২০২২ সাল নাগাদ শেষ বারের মতো প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক নিয়োগের জন্য টেট পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল। এই পরীক্ষায় যারা কৃতকার্য হয়েছিলেন, তাঁরা বারবার বলে আসছিলেন যে ইন্টারভিউয়ের মাধ্যমে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ করা হোক। কিন্তু এটা দেখা যাচ্ছে যে নানানভাবে আবেদন, নিবেদন, প্রতিবাদ করার পরেও রাজ্য সরকার এই চাকুরি প্রার্থীদের কথায় কর্ণপাত করছে না। অন্যান্য ক্ষেত্রে সরকার মানুষকে জ্ঞান দিয়ে চলেছে যে নানারকম মামলা চলার জন্য চাকুরিতে নিয়োগ হচ্ছে না। কিন্তু ২০২২ সালে হওয়া এই প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের জন্য টেট পরীক্ষার ক্ষেত্রে কোন মামলা মোকদ্দমা নেই। পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মৌখিক সাক্ষাৎকার হবে। তারপর মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হবে। এটা করতে সরকারের যাবতীয় গড়িমসি। প্রায় ৫০ হাজারেরও বেশি ছেলেমেয়ে হতাশায় ডুবে রয়েছেন।
বিকাশ ভবনের একটি সমীক্ষা অনুযায়ী, রাজ্যের ২২টি জেলায় মোট ৪৯,৩৬৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ২,২১৫টি বিদ্যালয়ে কোনো শিক্ষক নেই অথবা মাত্র একজন শিক্ষক আছেন। স্বাভাবিকভাবেই অনেক পড়ুয়া স্কুলছুট হচ্ছে। তাহলে একদিকে শিক্ষক নিয়োগ হচ্ছে না অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলি বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফলে গরীব প্রান্তিক মানুষের ভবিষ্যত ধ্বংসের পথে।
এই পরিস্থিতিতে আজ কলকাতায় বিধানসভা ভবনের সামনে ২০২২ সালে টেট উত্তীর্ণরা তাদের দাবিদাওয়া নিয়ে হাজির হয়েছিলেন। গণতান্ত্রিকভাবে তারা তাদের ক্ষোভের কথা জানাচ্ছিলেন। পুলিশ ওখানে অনেক হবু শিক্ষক-শিক্ষিকাকে টেনেহিঁচড়ে প্রিজন ভ্যানে তোলে। পুলিশের এই আচরণকে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট নিন্দা জানাচ্ছে। যাদের আটক করা হয়েছে তাদের নিঃশর্তে ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে আইএসএফ। অবিলম্বে টেট উত্তীর্ণদের মৌখিক সাক্ষাৎকার নিয়ে নিয়োগের ব্যবস্থা রাজ্য সরকারকে করতে হবে। পাশাপাশি প্রাথমিক শিক্ষাপদ্ধতি যাতে সচল থাকে তার জন্য সরকারকে সক্রিয় উদ্যোগ নিতে হবে।