SIR নিয়ে হেল্পলাইন পোর্টাল খুলল প্রোগ্রেসিভ ইন্টেলেকচুয়ালস অব বেঙ্গল
নিজস্ব সংবাদদাতা , ৪ নভেম্বর ২০২৫:
আতঙ্কের আবহে মানবিক উদ্যোগে পাশে সাধারণ মানুষ
SIR নিয়ে সারা বাংলা উত্তাল। চারিদিকে ছড়িয়ে পড়েছে থমথমে আতঙ্কের পরিবেশ। বিভিন্ন জায়গা থেকে আতঙ্কে আত্মহত্যার খবর পাওয়া যাচ্ছে। মেদিনীপুরের বাংলাদেশ কলোনির ভিডিও ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে। নেট নাগরিকরা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে বানানো ফাঁকা বনগাঁ লোকালের ছবিও সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে শেয়ার করছেন। রাজনৈতিক তরজার সুর সপ্তগ্রাম থেকে শুরু করে জেলা শহর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। শহুরে শিক্ষিত মানুষ তুলনামূলকভাবে শান্ত থাকলেও, গ্রামাঞ্চলের প্রান্তিক মানুষদের মধ্যে ভয় ও দুশ্চিন্তার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ব্যাংক একাউন্ট সিজ হয়ে যাবে এই আশঙ্কায় অনেক গ্রামে মানুষ ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিচ্ছেন। ঠাকুরনগরে নাগরিকত্বের কার্ড বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। ফলে আতঙ্কিত মানুষ নিজেদের ভোটার পরিচয় প্রমাণ করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন।
এই দুশ্চিন্তা ও বিভ্রান্তির আবহে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এক মানবিক উদাহরণ স্থাপন করল প্রোগ্রেসিভ ইন্টেলেকচুয়ালস অব বেঙ্গল (PIB)। সংগঠনটি SIR সংক্রান্ত সব তথ্য সহজে মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে চালু করল একটি বিশেষ হেল্পলাইন পোর্টাল। কীভাবে এই পোর্টাল কাজ করবে, তা বোঝাতে একটি গাইড ভিডিও প্রকাশ করেছে তারা তাদের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে।
পোর্টালটি থেকে খুব সহজেই ডাউনলোড করা যাচ্ছে পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত জেলা, বিধানসভা ও বুথভিত্তিক ২০০২ সালের ভোটার তালিকা। পাশাপাশি কোনও অসুবিধা হলে নিজের এলাকার বিএলও (BLO)-এর তথ্যও খুঁজে বের করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। কিভাবে এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করতে হবে, এবং কবে পর্যন্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হবে— ধাপে ধাপে সেই নির্দেশিকাও দেওয়া হয়েছে পোর্টালে।
SIR নিয়ে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মানবিক পদক্ষেপের সঙ্গে সংগঠনের নামের মিল যেন একেবারেই যথাযথ। পোর্টালে রয়েছে একটি FAQ সেকশন, যেখানে মানুষ তাদের সমস্যার সঙ্গে মিলিয়ে সমাধান খুঁজে নিতে পারেন। নতুন কোনও সমস্যা থাকলে সেটিও লিখে পাঠালে তার উত্তর দেওয়ার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
এর আগে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় SIR হেল্পলাইন ও স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করেছিল সংগঠনটি। কিন্তু সমস্যার ব্যাপকতা উপলব্ধি করে এবার সমস্ত প্রশ্ন ও জিজ্ঞাসাকে একত্র করে এক ছাতার তলায় আনার জন্য এই পোর্টাল লঞ্চ করা হয়েছে।
এই উদ্যোগকে ঘিরে শিক্ষিত মহলে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট উচ্ছ্বাস দেখা গেছে। এ বিষয়ে PIB-এর সভাপতি অধ্যাপক মানাজাত আলী বিশ্বাস বলেন,
“কেন্দ্র সরকার তাড়াহুড়ো করে SIR চালু করার ফলে জনসাধারণের মধ্যে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। আগে অবৈধ ভোটারদের নাম বাদ দেওয়ার দায়িত্ব ছিল নির্বাচন কমিশনের উপর। এখন নিজেকে বৈধ ভোটার প্রমাণ করার দায়িত্ব জনগণের ঘাড়ে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। এতে প্রান্তিক মানুষ, সংখ্যালঘু সমাজ ও দরিদ্র জনগণ যথেষ্ট দুশ্চিন্তার মধ্যে রয়েছেন। প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে একবার নাম বাদ পড়লে ভবিষ্যতে অশেষ হয়রানি হবে।”
তিনি আরও বলেন,
“SIR প্রক্রিয়ায় যাতে মানুষ কোনও অসুবিধার সম্মুখীন না হন, সেই উদ্দেশ্যে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় আমাদের সংগঠনের সদস্যরা স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে সাধারণ মানুষকে তথ্য ও সহায়তা দিচ্ছেন। সেই সহযোগিতাকে আরও বিস্তৃত করতে আমরা এই হেল্পলাইন পোর্টাল চালু করেছি। আমরা জনসাধারণের হয়রানির বিপক্ষে।”
সামাজিক সংগঠন হিসেবে PIB-এর এই মানবিক পদক্ষেপ সমাজ মাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। অধ্যাপক মানাজাত আলী আরও জানান, খুব শীঘ্রই SIR নিয়ে সহায়তার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন জেলায় সেমিনার ও জনসচেতনতা সভার আয়োজন করা হবে।
এই আতঙ্ক ও বিভ্রান্তির সময়ে PIB-এর এই উদ্যোগ রাজ্যে এক ইতিবাচক বার্তা ছড়িয়েছে— ভয় নয়, তথ্যই হোক নাগরিকের অস্ত্র।