‘গাজা স্থিতিশীলতা বাহিনী’ গঠনে ঐক্যমতের চেষ্টা, কিন্তু ফিলিস্তিনি স্বার্থ অক্ষুণ্ণ রাখতে জোর
জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবিত এক খসড়া সিদ্ধান্ত নিয়ে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা চলছে, যার উদ্দেশ্য গাজা উপত্যকায় একটি আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন করা। কায়রো জানিয়েছে, মিশর এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয়ভাবে যুক্ত রয়েছে এবং সকল পক্ষের মধ্যে ঐক্যমতের মাধ্যমে একটি কার্যকর প্রস্তাব তৈরির প্রচেষ্টা চলছে।
মিশরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আব্দেল আতি জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন, মস্কো, বেইজিং ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের পাশাপাশি আরব গ্রুপের সদস্য দেশগুলোর সঙ্গে মিশর প্রতিদিনই পরামর্শ চালাচ্ছে। তাঁর মতে, প্রস্তাবটি এমনভাবে তৈরি করা উচিত যাতে ফিলিস্তিন ইস্যুর মূল নীতি ক্ষুণ্ণ না হয় এবং বাস্তবায়নযোগ্য হয়।
অন্যদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কয়েক দিন আগে বলেছেন, গাজায় আন্তর্জাতিক বাহিনী “খুব শিগগিরই” কাজ শুরু করবে। খসড়া অনুযায়ী, প্রস্তাবিত বাহিনী দু’বছরের জন্য একটি অন্তর্বর্তী প্রশাসনের অধীনে কাজ করবে এবং গাজার নিরাপত্তা ও নিরস্ত্রীকরণে ভূমিকা রাখবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, ইসরায়েল ও কিছু পশ্চিমা দেশের শর্তে প্রস্তাবটি জটিল হয়ে উঠেছে। ইসরায়েল চাইছে এই বাহিনী শান্তিরক্ষী নয়, বরং কার্যকর ‘নির্বাহী’ বাহিনী হোক, যা গাজা থেকে সশস্ত্র দলগুলোর অস্ত্র সরিয়ে ফেলবে।
কায়রোভিত্তিক গবেষক ড. সাঈদ আক্কাশা মনে করেন, “মিশরের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কিন্তু ইসরায়েল জাতিসংঘের সিদ্ধান্ত মানবে কিনা, সেটাই বড় প্রশ্ন।”
ফিলিস্তিনি বিশ্লেষক নাজার নাজাল বলেন, “মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একধরনের সমঝোতা তৈরি হলে এটি নরম সুরের একটি সমন্বিত প্রস্তাবে পরিণত হতে পারে।”
তবে রাশিয়া ও চীনের আপত্তি এখনও বড় প্রতিবন্ধক। দু’দেশই এমন কোনো প্রস্তাবের পক্ষে নয়, যা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলকে অতিরিক্ত ভূমিকা দেয়।
ইতিমধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাতও জানিয়েছে, “বর্তমান অবস্থায় তারা এই বাহিনীতে অংশ নেবে না।”
পর্যবেক্ষকদের মতে, প্রস্তাবটি পাস করতে কমপক্ষে নয়টি ভোট প্রয়োজন এবং কোনো স্থায়ী সদস্যের ভেটো না থাকলে সেটি গৃহীত হবে।
কিন্তু সম্ভাবনা রয়েছে, যদি ভেটো দেওয়া হয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র স্বতন্ত্রভাবে একটি বহু-জাতীয় বাহিনী গঠন করতে পারে — যা মিশর ও অন্যান্য আরব দেশের উদ্বেগ বাড়াবে।