মধ্য এশিয়ায় রুশ প্রভাব টিকিয়ে রাখতে সফরে পুতিন
দুশানবে, ৮ অক্টোবর ২০২৫:
রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বৃহস্পতিবার মধ্য এশিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মেলনে অংশ নিতে যাচ্ছেন, যেখানে প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে মস্কোর ঐতিহ্যবাহী প্রভাব এখন চীনের ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি ও পশ্চিমা আগ্রহের কারণে চ্যালেঞ্জের মুখে।
তাজিকিস্তানের রাজধানী দুশানবে-তে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে এই রাশিয়া–মধ্য এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন, যেখানে অংশ নেবেন কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, উজবেকিস্তান, তাজিকিস্তান ও তুর্কমেনিস্তানের নেতারা। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর এ ধরনের সম্মেলন দ্বিতীয়বারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
২০২২ সালের প্রথম সম্মেলনে পুতিন পশ্চিমা দেশগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছিলেন যে তারা “রাশিয়া ও মধ্য এশিয়ার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নষ্ট করার চেষ্টা করছে।”
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের পর থেকে মধ্য এশিয়া কূটনৈতিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। গত এক বছরে এই অঞ্চল ইউরোপীয় ইউনিয়ন, চীন ও তুরস্কের সঙ্গে একাধিক সম্মেলন আয়োজন করেছে।
কাজাখস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই “৫+১ ফরম্যাট” হলো একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম, যা মধ্য এশীয় দেশগুলোকে যৌথভাবে আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ইস্যু নিয়ে অবস্থান নির্ধারণের সুযোগ দেয়।
পুতিন বৃহস্পতিবার তাজিক প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান-এর সঙ্গে বৈঠক করবেন, এরপর শুরু হবে রাশিয়া–মধ্য এশিয়া শীর্ষ সম্মেলন।
নতুন প্রভাবের প্রতিযোগিতা
গবেষক ইলিয়া লোমাকিন বলেন, “মধ্য এশিয়ায় বর্তমানে প্রভাব বিস্তারের প্রতিযোগিতা এক ধরনের ‘নতুন মহা খেলা’, যেখানে রাশিয়া, চীন ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে।”
চীনের “বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ” প্রকল্প ২০১৩ সালে শুরু হওয়ার পর থেকে অঞ্চলটিতে বেইজিং-এর উপস্থিতি দ্রুত বেড়েছে।
তবে পুতিন দাবি করেছেন, “এটি কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বরং সহযোগিতা,” এবং রাশিয়া অঞ্চলে তাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক ধরে রাখতে জ্বালানি চুক্তি ও পারমাণবিক প্রকল্পে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে।
অন্যদিকে, মধ্য এশিয়ার দেশগুলো এখন নিজেদের কূটনৈতিক বিকল্প খুঁজছে। ২০২২ সালের সম্মেলনে তাজিক প্রেসিডেন্ট রহমান পুতিনের প্রতি “সম্মানের” আহ্বান জানিয়েছিলেন—যা মিত্র দেশগুলোর মধ্যে প্রকাশ্যে খুব কমই শোনা যায়।
২০২৩ সালের হিসাবে, রাশিয়ার সঙ্গে মধ্য এশিয়ার বাণিজ্য ছিল ৪৪ বিলিয়ন ডলার, কিন্তু ২০২৪ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে সেই অঙ্ক দাঁড়ায় ৬৪ বিলিয়ন ডলার। চীনের সঙ্গে বাণিজ্য আরও বেশি—২০২৪ সালে ৯৪.৮ বিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পৌঁছেছে।