গাজা যুদ্ধবিরতি চুক্তির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হতে ইসরায়েলকে বাধা না দেওয়ার আহ্বান কাতারের
গাজায় যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়ার ক্ষেত্রে ইসরায়েলের অযথা বিলম্ব বা বাধা সৃষ্টি করা উচিত নয় বলে মন্তব্য করেছে কাতার। দোহা স্পষ্ট করেছে, সম্ভাব্য কোনো স্বাভাবিকীকরণ (নরমালাইজেশন) আলোচনাও কেবলমাত্র ফিলিস্তিন ইস্যুর একটি সর্বসম্মত ও চূড়ান্ত সমাধানের প্রেক্ষিতেই সম্ভব।
রবিবার কাতার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মেজেদ আল–আনসারি স্থানীয় গণমাধ্যমকে বলেন, ইসরায়েল গাজায় থাকা দুইজন নিহত বন্দির দেহ ফেরত না পাওয়ার অজুহাতে যুদ্ধবিরতির রোডম্যাপের দ্বিতীয় ধাপে বাধা সৃষ্টি করছে। তিনি বলেন, “গাজায় থাকা শেষ দুইজনের মৃতদেহ উদ্ধারের বিষয়টি অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। তবে এর কারণে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়ন আটকে রাখা উচিত নয়। একই সঙ্গে ফিলিস্তিনি পক্ষও দেহ দুটির সন্ধানে কাজ করছে, যেন ইসরায়েল অতিরিক্ত কোনো অজুহাত দাঁড় করাতে না পারে।”
মার্কিন মধ্যস্থতায় ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তি ১০ অক্টোবর কার্যকর হয়। এতে হামাস প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা আটকে রাখা মোট ৪৮ জন বন্দিকে ফিরিয়ে দেবে, যাদের মধ্যে ২০ জন জীবিত ছিল। এখন পর্যন্ত ৪৬ জনকে ফেরত দেওয়া হয়েছে; বাকি দুজনের মৃতদেহ এখনো গাজায় রয়েছে।
আনসারি বলেন, “কাতার ও আঞ্চলিক অংশীদারদের প্রধান লক্ষ্য এখন প্রথম ধাপ থেকে দ্বিতীয় ধাপে যাওয়া, যাতে গাজায় স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা সম্ভব হয় এবং যুদ্ধ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়।”
তিনি আরও জানান, “যুদ্ধবিরতির এই ধাপে পৌঁছানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। এখন মূল লক্ষ্য হলো এই বিরতিকে যথেষ্ট সময় ধরে রাখা, যাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়, যুক্তরাষ্ট্র ও আঞ্চলিক সব পক্ষের সহায়তায় দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সমাধান নিশ্চিত করা যায়।”
কাতারের তরফ থেকে আরও জানানো হয়, দোহা ও তেল আবিবের মাঝে কোনো সম্ভাব্য স্বাভাবিকীকরণ আলোচনা কেবলমাত্র ফিলিস্তিন ইস্যুসহ একটি পূর্ণাঙ্গ সমাধানের কাঠামোর মধ্যেই সম্ভব।
অন্যদিকে, শনিবার তেল আবিবে ‘হোস্টেজেস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম’ শেষ দুইজন বন্দির দেহ ফেরত আনার দাবিতে একটি বিক্ষোভ আয়োজন করে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, গাজায় থাকা শেষ দুইজনের দেহ ফেরত না পাওয়া পর্যন্ত তারা যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে এগোবে না। তবে ফিলিস্তিনি সূত্র ‘আশরাকুল আওসাত’-কে জানিয়েছে, ইসরায়েল হামাসের সংশ্লিষ্ট কমান্ডারদের হত্যার কারণে এবং ধারাবাহিক বোমাবর্ষণে সেই এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ হওয়ায় দেহগুলো খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
যুদ্ধবিরতির পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপে গাজা প্রশাসন একটি অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের হাতে তুলে দেওয়া, আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী মোতায়েন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর “হলুদ রেখা” থেকে প্রত্যাহার এবং হামাসের নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।