কাতারের প্রধানমন্ত্রীর অভিযোগ: “জিম্মিদের প্রতি ইসরায়েলের কোনও আগ্রহ নেই”
আন্তর্জাতিক ডেস্ক | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫ জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানি ইসরায়েলকে তীব্র সমালোচনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ইসরায়েল গাজার জিম্মিদের মুক্তির বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে না এবং দোহায় সম্প্রতি চালানো বিমান হামলার মাধ্যমে কাতারের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ইসরায়েল শক্তি দিয়ে গোটা অঞ্চলকে পুনর্গঠন করার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমরা রক্তপাত বন্ধের জন্য মানবিক ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাব।” দোহায় হামলা ও কূটনৈতিক প্রতিক্রিয়া গত সপ্তাহে দোহায় হামাস নেতাদের বৈঠকের সময় ইসরায়েলের বিমান হামলায় অন্তত ছয়জন নিহত হন। বৈঠকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতাকারী শান্তিচুক্তি ও যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা চলছিল। এই হামলার ফলে কাতার, মিসর ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনায় বাধা সৃষ্টি হয়েছে এবং ইসরায়েল আন্তর্জাতিকভাবে আরও বিচ্ছিন্ন হয়েছে। জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদও এই হামলার নিন্দা জানিয়েছে। শেখ মোহাম্মদ বলেন, “আজ যারা ইসরায়েল চালাচ্ছে, তারা জিম্মিদের বিষয়ে কোনও মাথাব্যথা করে না। নাহলে এমন সময়ে এই হামলা কীভাবে ন্যায্যতা পায়?” ইসরায়েলের পাল্টা বক্তব্য জাতিসংঘে ইসরায়েলের রাষ্ট্রদূত দানি দানন বলেন, “কাতার যদি হামাসকে সমর্থন করে যায়, তবে ইসরায়েল নিজেই ব্যবস্থা নেবে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইসরায়েলের লড়াই হামাসের সঙ্গে, গাজার জনগণ বা কাতার রাষ্ট্রের সঙ্গে নয়। আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া জাতিসংঘের রাজনৈতিক বিষয়ক কর্মকর্তা রোজমেরি ডিকারলো বলেন, “দোহায় হামলা বিশ্বকে স্তম্ভিত করেছে এবং এটি গাজা যুদ্ধের আরও বিপজ্জনক অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে।” পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত আসিম ইফতিখার আহমদ মন্তব্য করেন, “ইসরায়েল শান্তি ধ্বংসের সব পথেই এগোচ্ছে। এ অবস্থায় জিম্মিদের মুক্তি আদৌ অগ্রাধিকার পাচ্ছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।” তবে যুক্তরাষ্ট্রের কার্যনির্বাহী রাষ্ট্রদূত ডরোথি শিয়া বলেন, “জিম্মিদের ফেরাতে ইসরায়েলের প্রতিশ্রুতিকে প্রশ্নবিদ্ধ করা ঠিক হবে না।” যুক্তরাষ্ট্র সফর ও পরবর্তী পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ জাতিসংঘ বৈঠক শেষে ওয়াশিংটনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। এছাড়া তাঁর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে.ডি. ভ্যান্সের সঙ্গেও বৈঠক করার কথা রয়েছে। ট্রাম্প ইতিমধ্যেই বলেছেন, দোহায় হামলা যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের স্বার্থে হয়নি এবং এ নিয়ে তাঁর ক্ষোভ রয়েছে। এদিকে কাতার ঘোষণা করেছে, আগামী সপ্তাহে দোহায় একটি আরব-ইসলামিক শীর্ষ সম্মেলন আয়োজন করা হবে, যেখানে এই হামলা এবং গাজার চলমান যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হবে।transalte it to english and hindi