হোয়াইট হাউসের সামনে এলোপাথাড়ি গুলি, আহত ২ ন্যাশনাল গার্ড—চাঞ্চল্যে ওয়াশিংটন, কড়া বার্তা ট্রাম্পের
হোয়াইট হাউসের সামনে গভীর রাতে ঘটে গেল ভয়াবহ গুলিবর্ষণের ঘটনা। অজ্ঞাতপরিচয় বন্দুকবাজের হামলায় গুরুতর জখম হয়েছেন দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্য। বৃহস্পতিবার ভোররাতে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই রাজধানীতে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুততার সঙ্গে অভিযানে নেমে মেট্রোপলিটন পুলিশ একজন সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করেছে, যদিও আহত দুই সদস্যের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিছু জানানো হয়নি।
চলতি বছর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে রাজধানী অঞ্চলে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করেছিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নিয়মিত টহলের অংশ হিসেবে ডাউনটাউন এলাকায় দায়িত্বে ছিলেন দুই সদস্য। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, হঠাৎ করেই তাঁদের লক্ষ্য করে গুলি চালাতে শুরু করে এক বন্দুকবাজ। প্রত্যুত্তরে গার্ড সদস্যদের গুলিও চলে, এবং কয়েক মিনিট ধরে গুলিযুদ্ধ চলতে থাকে।
মেট্রোপলিটন পুলিশের প্রাথমিক রিপোর্টে জানা গেছে, আহতদের মধ্যে একজন মহিলা সদস্যও রয়েছেন। প্রকাশ্যে আসা ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে, গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁদের অ্যাম্বুল্যান্সে তোলা হচ্ছে। এবিসি নিউজ জানিয়েছে, দু’জনের অবস্থাই আশঙ্কাজনক, তবে এখনও সরকারি বিবৃতি প্রকাশ হয়নি।
ঘটনার পরে ইউএস মার্শাল, এফবিআই ও এটিএফের টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়। এলাকা ঘিরে ফেলে নিরাপত্তা বাহিনী। আকাশে নজরদারির জন্য উড়ানো হয় দু’টি হেলিকপ্টার। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় এক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়।
হামলার সময় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ছিলেন না। থ্যাঙ্কসগিভিং উপলক্ষে তিনি ফ্লোরিডায় অবস্থান করছিলেন। তবু ঘটনাটি তাঁকে তড়িঘড়ি জানানো হয়েছে বলে হোয়াইট হাউস সূত্রে জানা গেছে। ওয়াশিংটনের মেয়র মুরিয়েল বাউসার জানিয়েছেন, “সমগ্র পরিস্থিতির ওপর কঠোর নজর রাখা হচ্ছে এবং তদন্ত দ্রুত এগোচ্ছে।”
পরবর্তীতে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে ট্রাম্প লেখেন,
“দুই ন্যাশনাল গার্ড সদস্য চিকিৎসাধীন। হামলাকারী নিজেও আহত। কিন্তু তাকে ছাড় দেওয়া হবে না—বড় মূল্য চোকাতে হবে। গার্ড, সেনা ও পুলিশ সদস্যরা আমাদের গর্ব।”
ছবি: সংগৃহীত