ইজ়রায়েলি অস্ত্র রফতানিতে রেকর্ড আয়, দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা ভারত
গাজ়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক সমালোচনা চললেও ২০২৪ সালে ইজ়রায়েলের অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম রফতানি থেকে আয় নজিরবিহীন পর্যায়ে পৌঁছেছে। ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থাগুলির তথ্য উদ্ধৃত করে সে দেশের সরকার জানিয়েছে, গত বছরে অস্ত্র রফতানি থেকে প্রায় ১৫০০ কোটি ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ১ লক্ষ ৩৫ হাজার কোটি টাকা) আয় হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ১৩ শতাংশ বেশি।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইজ়রায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় বাজার ইউরোপ। গাজ়ায় সামরিক অভিযানের বিরোধিতা করে ইউরোপীয় ইউনিয়নের একাধিক দেশ ইজ়রায়েলকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করলেও বাস্তবে সামরিক সহযোগিতা ও অস্ত্র কেনাবেচা অব্যাহত রয়েছে। ইউরোপের পর ইজ়রায়েলি অস্ত্রের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রেতা হিসেবে উঠে এসেছে ভারত।
প্রতিরক্ষা শিল্প সংস্থাগুলির আয়ের হিসাবেও উল্লেখযোগ্য চিত্র উঠে এসেছে। সর্বাধিক আয় করেছে এলবিট সিস্টেমস, যার পরিমাণ প্রায় ৬২৮ কোটি ডলার। এর পরে রয়েছে ইজ়রায়েল অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ (প্রায় ৫১৯ কোটি ডলার) এবং রাফায়েল অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেমস (প্রায় ৪৭০ কোটি ডলার)।
এদিকে, ভারত ও ইজ়রায়েলের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরও জোরদার হচ্ছে। চলতি মাসে ‘ভারত-ইজ়রায়েল জয়েন্ট ওয়ার্কিং গ্রুপ’-এর বৈঠকে আধুনিক অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জামের যৌথ উৎপাদন নিয়ে দুই দেশ একমত হয়েছে। পাশাপাশি, নয়াদিল্লি ও তেল আভিভের মধ্যে একটি নতুন সমঝোতা স্মারক (MoU) সই হয়েছে। সূত্রের খবর, এই চুক্তিতে অস্ত্র উৎপাদনের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) এবং সাইবার নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল ক্ষেত্রেও সহযোগিতার কথা উল্লেখ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক চাপ ও রাজনৈতিক বিতর্ক সত্ত্বেও ইজ়রায়েলের প্রতিরক্ষা শিল্প বিশ্ব বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করছে, যার অন্যতম উদাহরণ ইউরোপ ও ভারতের মতো বড় বাজারে রফতানির ধারাবাহিক বৃদ্ধি।