ইসরায়েলি অভিযানের আগে নূর শামস শরণার্থী শিবিরে বাসিন্দাদের শেষবারের মতো মালপত্র উদ্ধার
রামাল্লাহ: অধিকৃত পশ্চিম তীরের তুলকারেম শহরের নিকটবর্তী নূর শামস শরণার্থী শিবিরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর ঘোষিত বাড়িঘর ধ্বংসের আগে বুধবার বহু ফিলিস্তিনি বাসিন্দা সাময়িকভাবে শিবিরে ফিরে নিজেদের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সংগ্রহ করেন। কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিবিরের অন্তত ২৫টি আবাসিক ভবন ভেঙে ফেলার কথা রয়েছে, যেখানে প্রায় একশ’ পরিবার বসবাস করত।
চলতি বছরের শুরু থেকেই ইসরায়েলি সেনাবাহিনী উত্তর পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ধারাবাহিক সামরিক অভিযান চালিয়ে আসছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযান সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে পরিচালিত হচ্ছে। এ অভিযানের ফলে নূর শামস, তুলকারেম ও জেনিনসহ কয়েকটি শিবির থেকে ৩০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার সকাল থেকে সীমিত সময়ের জন্য কিছু বাসিন্দাকে শিবিরে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়। তারা ট্রাক ও ছোট যানবাহনে করে আসবাবপত্র, শিশুদের খেলনা, পানি ট্যাংক, জানালার ফ্রেম, ছবি ও অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী সরিয়ে নেন। এ সময় ইসরায়েলি সেনারা পরিচয়পত্র যাচাই ও দেহ তল্লাশি করে এবং শুধু যাদের বাড়ি ভাঙার নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাদেরই প্রবেশের অনুমতি দেয়।
নূর শামস শিবির থেকে বাস্তুচ্যুত বাসিন্দা মাহমুদ আবদুল্লাহ বলেন, জোরপূর্বক চলে যাওয়ার পর প্রথমবার শিবিরে ঢুকে তিনি ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখতে পান। তাঁর ভাষায়, “বাসযোগ্য বাড়ি বলতে হাতে গোনা কয়েকটি রয়েছে, পুরো শিবিরটাই প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে।”
এর আগে চলতি সপ্তাহের শুরুতে ২৫টি ভবন ধ্বংসের ঘোষণা দেওয়া হয়, যা বৃহস্পতিবার বাস্তবায়নের কথা রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সামরিক যান ও ভারী যন্ত্রপাতি চলাচলের সুবিধার্থে শিবিরের সরু গলিতে থাকা অসংখ্য ভবন ও ঘর ভেঙে ফেলা হয়েছে।
একইভাবে, যাদের বাড়ি ভাঙার নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তাদের মধ্যেও কেউ কেউ নিজ ঘরে ঢোকার অনুমতি পাননি। নূর শামসের বাসিন্দা আহমেদ আল-মাসরি জানান, তার নাম সংশ্লিষ্ট তালিকায় না থাকায় তাকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি।
এদিকে, পশ্চিম তীরে জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (ইউএনআরডব্লিউএ)-এর এক কর্মকর্তা জানান, চলমান অভিযানে এ পর্যন্ত প্রায় ১,৬০০ ঘরবাড়ি আংশিক বা পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
নূর শামসসহ পশ্চিম তীরের শরণার্থী শিবিরগুলো মূলত ১৯৪৮ সালের যুদ্ধের পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় হিসেবে গড়ে ওঠে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তাঁবুর পরিবর্তে স্থায়ী ঘরবাড়ি নির্মিত হলেও সাম্প্রতিক অভিযানে সেসব বসতিও বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।
বাস্তুচ্যুত এক নারী বাসিন্দা ইবতিসাম বলেন, “ঘরবাড়ি ধ্বংস হলেও আমাদের মনোবল ভাঙবে না। আমরা আবার ফিরে আসব এবং নতুন করে গড়ে তুলব।”