বাংলাদেশের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান: ভারতীয় গণমাধ্যমে বিশ্লেষণ।
ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক সাধারণ নির্বাচন ও তাতে জামায়াতে ইসলামীর উত্থান নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা প্রকাশিত হয়েছে। দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মধ্যে থাকার পর দলটির নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তনকে তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছে ভারতের বিশ্লেষক মহল।
ভারতের প্রভাবশালী সাময়িকী দ্য উইক-এ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী ৩০টির বেশি আসনে জয়ী হয়ে বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে। ফলে দলটি এখন প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ৩০০ আসনের জাতীয় সংসদে ১৫১টির বেশি আসন পেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আসন পেয়েছে জামায়াতে ইসলামী। দলটির আমির ডা. শফিকুর রহমান ঢাকা-১৫ আসন থেকে নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া মুজিবুর রহমান (রাজশাহী-১), শাহজাহান চৌধুরী (চট্টগ্রাম-১৫) ও এ টি এম আজহারুল ইসলাম (রংপুর-২) জয়ী হয়েছেন। ঢাকা-১৪ আসন থেকে মীর আহমদ বিন কাসেমের জয়ও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর ডা. শফিকুর রহমান জানান, তার দল গঠনমূলক ও ইতিবাচক রাজনীতিতে বিশ্বাসী। দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান ও সুশাসনের প্রতিশ্রুতি সামনে রেখে দলটি নতুন রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে প্রতিবেদনে বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ভারতের পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অবস্থান তরুণ ও শিক্ষিত ভোটারদের একটি অংশের সমর্থন অর্জনে সহায়ক হয়েছে।
প্রতিবেদনে স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, ২০০১ থেকে ২০০৬ মেয়াদে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের অংশ ছিল জামায়াত। পরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে দলটির কয়েকজন শীর্ষ নেতার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হয় এবং শেখ হাসিনা সরকারের আমলে দলটি নিষিদ্ধ হয়। রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে।
ভারতীয় গণমাধ্যমের বিশ্লেষণে আরও বলা হয়েছে, সরকার পতনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ইস্যুতে কিছু এলাকায় জামায়াত কর্মীদের সক্রিয়তা দলটির ভাবমূর্তি পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জামায়াত ১৮টি আসন পেয়েছিল, যা ছিল তাদের পূর্ববর্তী সর্বোচ্চ সাফল্য। এবারের নির্বাচনে ৩০টির বেশি আসন লাভের মাধ্যমে দলটি সেই রেকর্ড অতিক্রম করেছে এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করেছে।