ইউক্রেনের ওডেসা অঞ্চলে রাশিয়ার হামলা জোরদার, বিদ্যুৎ ও বন্দর অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত
ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ ওডেসা এলাকায় সাম্প্রতিক সময়ে হামলার মাত্রা বাড়িয়েছে রাশিয়া। ধারাবাহিক এসব আক্রমণে ব্যাপক বিদ্যুৎ বিপর্যয় দেখা দিয়েছে এবং ঝুঁকির মুখে পড়েছে সমুদ্রবন্দরসহ গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক স্থাপনা।
ইউক্রেনের উপপ্রধানমন্ত্রী ওলেক্সি কুলেবা জানিয়েছেন, ওডেসাকে লক্ষ্য করে পরিকল্পিত ও নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে রুশ বাহিনী। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দু ধীরে ধীরে এই অঞ্চলের দিকে সরে আসছে—এমন আশঙ্কা আগেই করা হয়েছিল।
এ বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, হামলাগুলোর মূল উদ্দেশ্য ইউক্রেনের সামুদ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও রসদ সরবরাহের পথ বিচ্ছিন্ন করা। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, চলতি মাসের শুরুতে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কৃষ্ণসাগরে রুশ তেলবাহী জাহাজে ড্রোন হামলার জবাবে ইউক্রেনের সমুদ্রপথ বন্ধ করার হুমকি দিয়েছিলেন।
রাশিয়ার তথাকথিত “শ্যাডো ফ্লিট” বলতে সেইসব তেলবাহী জাহাজকে বোঝানো হয়, যেগুলো পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার সন্ধ্যায় ওডেসার বন্দর এলাকায় হামলা চালানো হয়। এতে একটি বেসামরিক জাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে টানা হামলার ফলে বিদ্যুৎ সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে এবং হতাহতের ঘটনাও ঘটছে।
রোববার রাতে চালানো এক হামলায় অন্তত এক লাখ ২০ হাজার মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েন। একই সময়ে একটি বড় বন্দরে আগুন লেগে আটা ও ভোজ্যতেল বহনকারী বহু কনটেইনার পুড়ে যায়।
এর আগে গত সপ্তাহে ওডেসার পূর্বাঞ্চলের পিভদেননি বন্দরে ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় আটজন নিহত ও অন্তত ৩০ জন আহত হন। আরেক ঘটনায় গাড়িতে থাকা এক নারী ও তাঁর তিন সন্তান নিহত হন। ওই হামলার পর ইউক্রেন ও মলদোভাকে সংযুক্ত করা অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় সামরিক পর্যায়ে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, বিমান বাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং শিগগিরই ওডেসা অঞ্চলের জন্য নতুন এয়ার ফোর্স কমান্ডার নিয়োগ দেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ওডেসা ইউক্রেনের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি বন্দরনগরী। কিয়েভ ও খারকিভের পর এটি দেশের তৃতীয় বৃহত্তম শহর। জাপোরিঝঝিয়া, খেরসন ও মিকোলাইভ অঞ্চলের বন্দরগুলো রাশিয়ার দখলে চলে যাওয়ায় ওডেসার কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
ছবি: সংগৃহীত